Dhaka ০৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফলাফল পুলিশের জন্যে ৫,৮৩০টি যানবাহন ক্রয়ে ৬,৬০৮ কোটি টাকার প্রস্তাব একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে ছাড়, খরচ নিয়ন্ত্রণে বাড়ছে সুবিধা ওয়েজ বোর্ডসহ সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় তেলের দাম বাড়ল হাইকোর্টে বাড়ছে রিট নিষ্পত্তি: বিচারিক শৃঙ্খলায় কমবে মামলার চাপ কৃষকের চাহিদাকে অগ্রাধিকার : ৬৪ জেলায় শতভাগ সার বরাদ্দ বিএনপি সরকারের মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়নের সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে : প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন : বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ইসির প্রস্তুতি সভা আজ

পাবনার সাঁথিয়ায় একটি সেতুর দাবি এলাকাবাসীর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৫০:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ৫৮ Time View

১০ বছর আগে এলাকাবাসী নিজেরাই টাকা তুলে সুতিখালী নদীতে একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন, যা পরে বন্ধ হয়ে যায় । ছবি : বাসস

/ জহুরুল ইসলাম /

 

অনলাইন ডেস্ক : পাবনা, ২১ জুলাই, ২০২৬ : জেলার সাঁথিয়া উপজেলায় একটি সেতুর অভাবে ১০ বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ কৃষক পরিবারগুলো। একদিকে নদী, অন্যদিকে কবরস্থান। মাঝখানে নেই কোনো পারাপারের মাধ্যম। সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়নের ভিটাপাড়া গ্রামের কোনো মানুষ মারা গেলে মরদেহ দাফন করতে স্বজনদের পার হতে হয় সুতিখালী নদী। কখনো নৌকায়, আবার কখনো কোমরসমান পানিতে নেমে বা সাঁতরে মরদেহ নিয়ে যেতে হয় নদীর অন্য পাড়ে।

শুধু মরদেহ দাফনই নয়, গ্রামটির অধিকাংশ কৃষকের জমি ওই নদীর উত্তর পারে। কিন্তু পারাপারের কোনো সেতু না থাকায় ফসল ঘরে তুলতে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে কৃষক পরিবারগুলোকে।

স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, এক দশক পার হলেও এ সমস্যা কেটে ওঠার কোনো লক্ষণ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জীবনের ঝুঁকি ও সীমাহীন বিড়ম্বনা থেকে বাঁচতে ১০ বছর আগে নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য সরোয়ার হোসেনের উদ্যোগে এলাকাবাসী নিজেরাই টাকা তুলে সুতিখালী নদীতে একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত ও অর্থ সংকটের মুখে মাঝপথেই থমকে যায় সেতুর নির্মাণকাজ। নদীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা পিলারের কঙ্কালটি এখন কেবল মানুষের দীর্ঘশ্বাসের কারণ।

ভিটাপাড়া গ্রামের কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মানুষ মূলত কৃষিনির্ভর। সুতিখালী নদীর ওপারেই তাদের কয়েক শ’ বিঘা আবাদি জমি। নদীর ওপর সেতু না থাকায় একদিকে যেমন ফসল আনা-নেওয়ায় বাড়তি খরচ ও কষ্ট পোহাতে হচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষা কিংবা শুষ্ক বা যেকোনো মৌসুমেই চলাচলে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

গ্রামের বেশ কয়েকজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও একটি সেতুর সুরাহা হয়নি।

গ্রামের গৃহবধূরাও একই ভোগান্তির কথা জানান। নদীর ওপারে যাতায়াত সহজ হলে কৃষিতে যেমন গতি আসত, তেমনি পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যেত বলে মনে করেন তারা।

অর্ধনির্মিত এ সেতুর বিষয়ে উদ্যোক্তা ও সাবেক ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেনের দাবি, জনদুর্ভোগ কমাতেই তিনি গ্রামবাসীকে সংগঠিত করে সেতু নির্মাণের কাজে হাত দিয়েছিলেন। তবে নানা জটিলতায় কাজটি শেষ করা সম্ভব হয়নি। এখন সরকারিভাবে এটি সম্পন্ন করার জোর দাবি জানান তিনি।

নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে জানার পর তিনি গ্রামবাসীর দুর্ভোগ নিরসনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

পাবনার সাঁথিয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানান, সুতিখালী নদীর ওই পয়েন্টটি পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে গ্রামবাসীর তোলা কলামগুলোর ওপর ৯০ মিটারের একটি পূর্ণাঙ্গ সেতু নির্মাণ কারিগরিভাবে সম্ভব নয়। ওই স্থানে নতুন করে সেতু নির্মাণ করতে হবে। তবে সড়কটি প্রকৌশল অধিদপ্তরের আইডিভুক্ত না থাকায় প্রক্রিয়াটি আটকে ছিল। সড়কটি আইডিভুক্ত করার আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অনুমোদন মিললেই প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুত্র: বাসস

Bangla Photocard Generatorv3.7
জনপ্রিয়

যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফলাফল

পাবনার সাঁথিয়ায় একটি সেতুর দাবি এলাকাবাসীর

Update Time : ০৮:৫০:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

১০ বছর আগে এলাকাবাসী নিজেরাই টাকা তুলে সুতিখালী নদীতে একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন, যা পরে বন্ধ হয়ে যায় । ছবি : বাসস

/ জহুরুল ইসলাম /

 

অনলাইন ডেস্ক : পাবনা, ২১ জুলাই, ২০২৬ : জেলার সাঁথিয়া উপজেলায় একটি সেতুর অভাবে ১০ বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ কৃষক পরিবারগুলো। একদিকে নদী, অন্যদিকে কবরস্থান। মাঝখানে নেই কোনো পারাপারের মাধ্যম। সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়নের ভিটাপাড়া গ্রামের কোনো মানুষ মারা গেলে মরদেহ দাফন করতে স্বজনদের পার হতে হয় সুতিখালী নদী। কখনো নৌকায়, আবার কখনো কোমরসমান পানিতে নেমে বা সাঁতরে মরদেহ নিয়ে যেতে হয় নদীর অন্য পাড়ে।

শুধু মরদেহ দাফনই নয়, গ্রামটির অধিকাংশ কৃষকের জমি ওই নদীর উত্তর পারে। কিন্তু পারাপারের কোনো সেতু না থাকায় ফসল ঘরে তুলতে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে কৃষক পরিবারগুলোকে।

স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, এক দশক পার হলেও এ সমস্যা কেটে ওঠার কোনো লক্ষণ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জীবনের ঝুঁকি ও সীমাহীন বিড়ম্বনা থেকে বাঁচতে ১০ বছর আগে নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য সরোয়ার হোসেনের উদ্যোগে এলাকাবাসী নিজেরাই টাকা তুলে সুতিখালী নদীতে একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত ও অর্থ সংকটের মুখে মাঝপথেই থমকে যায় সেতুর নির্মাণকাজ। নদীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা পিলারের কঙ্কালটি এখন কেবল মানুষের দীর্ঘশ্বাসের কারণ।

ভিটাপাড়া গ্রামের কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মানুষ মূলত কৃষিনির্ভর। সুতিখালী নদীর ওপারেই তাদের কয়েক শ’ বিঘা আবাদি জমি। নদীর ওপর সেতু না থাকায় একদিকে যেমন ফসল আনা-নেওয়ায় বাড়তি খরচ ও কষ্ট পোহাতে হচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষা কিংবা শুষ্ক বা যেকোনো মৌসুমেই চলাচলে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

গ্রামের বেশ কয়েকজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও একটি সেতুর সুরাহা হয়নি।

গ্রামের গৃহবধূরাও একই ভোগান্তির কথা জানান। নদীর ওপারে যাতায়াত সহজ হলে কৃষিতে যেমন গতি আসত, তেমনি পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যেত বলে মনে করেন তারা।

অর্ধনির্মিত এ সেতুর বিষয়ে উদ্যোক্তা ও সাবেক ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেনের দাবি, জনদুর্ভোগ কমাতেই তিনি গ্রামবাসীকে সংগঠিত করে সেতু নির্মাণের কাজে হাত দিয়েছিলেন। তবে নানা জটিলতায় কাজটি শেষ করা সম্ভব হয়নি। এখন সরকারিভাবে এটি সম্পন্ন করার জোর দাবি জানান তিনি।

নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে জানার পর তিনি গ্রামবাসীর দুর্ভোগ নিরসনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

পাবনার সাঁথিয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানান, সুতিখালী নদীর ওই পয়েন্টটি পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে গ্রামবাসীর তোলা কলামগুলোর ওপর ৯০ মিটারের একটি পূর্ণাঙ্গ সেতু নির্মাণ কারিগরিভাবে সম্ভব নয়। ওই স্থানে নতুন করে সেতু নির্মাণ করতে হবে। তবে সড়কটি প্রকৌশল অধিদপ্তরের আইডিভুক্ত না থাকায় প্রক্রিয়াটি আটকে ছিল। সড়কটি আইডিভুক্ত করার আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অনুমোদন মিললেই প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুত্র: বাসস

Bangla Photocard Generatorv3.7