অনলাইন ডেস্ক : এবারের ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে শাকিব খান ও কলকাতার ইধিকা পাল অভিনীত সিনেমা ‘বরবাদ’। সারাদেশে ১২০ হলে একযোগে চলছে সিনেমাটি।
মুক্তির পর থেকেই ‘বরবাদ’ নিয়ে দর্শকমহেলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার দেখা মিলেছে। অনেকেই শাকিব খানের অভিনয় ও সিনেমার বিভিন্ন অ্যাকশন দৃশ্যের প্রশংসা করেছেন।
এবার ‘বরবাদ’ নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী। ঈদের দ্বিতীয় দিনেই প্রেক্ষাগৃহে হাজির হয়ে শাকিব খানের সিনেমাটি দেখেছেন তিনি।
এরপরই ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তুলে ধরেছেন ‘বরবাদ’-এর অভিজ্ঞতা। চয়নিকা তার স্ট্যাটাসে, ‘বরবাদ’কে গত ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত শাকিবের ‘তুফান’-এর চেয়ে এগিয়ে রেখেছেন।
চয়নিকা তার স্ট্যাটাসের শুরুতেই লিখেছেন, কালরাত থেকে ভাবছিলাম লিখবো। কিন্তু কী লিখবো? শুরুই করতে পারিনা। কারণ, ঈদে তার (শাকিব খানের) সিনেমা মানেই একদম আলাদা আর স্পেশাল। কোন সিনেমার সাথেই তুলনা আসেনা। তুলনা করাটা বোকামি। এটা কিন্ত আমার একার কথা না। এটা প্রমাণিত।
এরপর বরবাদ প্রসঙ্গে এই নির্মাতা লেখেন, বরবাদ হচ্ছে ম্যাস অডিয়েন্সের গল্প, একশন, গ্লামার, রোমান্টিক, এগ্রেসিভ, ভায়োলেন্স (যদিও আমি অতি ভায়োলেন্সের পক্ষে না, ব্যাক্তিগত মত আমার) এবং শেষে সামাজিক ম্যাসেজ সমৃদ্ধ একটি ওয়েল মেইড অসাধারণ এরেঞ্জমেন্টাল সিনেমা।
চরিত্রের প্রশংসা করে চয়নিকা লিখেছেন, আরিয়ান মির্জা চরিত্রে শাকিব খান, এমন প্রেজেন্টেশন বা লুক তার ক্যারিয়ারে এর আগে আমি কখনোই দেখিনি। তুখোড় অভিনেতা শাকিব খান এই বরবাদে আমার কাছে এ যাবত কালের বেষ্ট অ্যাক্টিং, বেষ্ট লুক, বেষ্ট চার্মিং এবং গ্রেসফুল। এক কথায় দুর্দান্ত।
‘অনেকের কাছে বরবাদ এক্সপেকটেশনের বাইরে ছিল। কিন্ত আমার কাছে এই উপস্থাপন বা প্রেজেন্টেশন ভাবনার ভেতরেই ছিল। কারণ, এই সময়ে এসে ক্যারিয়ারে তিনি না বুঝে কখনোই বরবাদ করতেন না। তিনি সিদ্ধান্ত বুঝেশুনেই নেন।’
পরিচালক মেহেদীর প্রশংসা করতেও ভুলেননি চয়নিকা। তার কথায়, পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়, আপনার কাজ আমি এর আগে দেখেছি। জানেন তো আপনি অনেক ভাগ্যবান। কারণ, আপনি একজন ভালো প্রযোজক পেয়েছেন। যার জন্যে গ্লোবাল মেগাষ্টার শাকিব খানকে পেয়ে আপনার সুন্দর ভাবনা, গল্পকে কাজে লাগিয়েছেন। স্যালুট আপনাকে। এটা আপনার প্রথম ছবি, একদম মনে হয়নি।
চয়নিকা বরবাদকে তুফানের চেয়ে এগিয়ে রাখলেন। তিনি বললেন, ‘আমার কাছে এই বরবাদ সিনেমা তুফান সিনেমাকে ছাড়িয়ে গেছে। এটা আমার একান্ত মতামত বা অনুভব। পরেরটার জন্যে তৈরী হয়েছেন নিশ্চয়ই।’
চয়নিকা আরও লিখেছেন, বরবাদে সুন্দর একটা টান টান গল্প আছে। কারণ, গল্প না থাকলে কোন সিনেমা আমার এবং দর্শকের মাথায় থাকে না। গল্পে আছে উত্তেজনাও। পরিচালকের কাষ্টিং দারুণ। ইধিকা পাল আর শাকিব খানের কেমিষ্ট্রি সেইইই ছিল। অনেক রোমান্টিক। আর ইধিকা পাল ছাড়া অন্য কোনো কাষ্টিং ভাবতে পারছিনা। চোখে ভাসে না। তাকে যে কী সুন্দর লেগেছে! ভীষণ আকর্ষণ ছিল তার ভেতর।
বরবাদ সিনেমার বাকি চরিত্রগুলোর প্রশংসাও শোনা গেছে এই নির্মাতর কণ্ঠে। চয়নিকার কথায়, মিশা সওদাগর সেরা অভিনয় করেছেন। গেটআপ লুক খুব স্মার্ট ছিল। এছাড়া স্যাম চরিত্র (স্যরি তার নাম আমার জানা নেই) যিনি অভিনয় করেছেন ভীষণ ভালো। শহিদুজ্জামান সেলিমের অভিনয়ে যেমন ছিল হিউমার তেমন ছিল গভীরতা! ফজলুর রহমান, ইফতেখাব দিনার, সবাই যার যার জায়গাতে উজ্জল ছিলেন। অ্যারেঞ্জমেন্ট, এডিটিং, সিনেম্যাটাগ্রাফি, ফাইটিংসেট, কষ্টিউম, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক সব ভালো। নেপথ্যের সবাইকে ধন্যবাদ। সবমিলিয়ে এই ছিল আমার দৃষ্টিতে ‘বরবাদ’।
আপনার মতামত লিখুন :