স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীর লক্ষীপুরে কানসার্ট ফার্মেসী নামক এক ঔষধের দোকানে নির্ধারিত দামের চেয়ে চারগুণ বেশি দামে ঔষধ বিক্রি করার অভিযোগ উঠে।
মঙ্গলবার চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার এক রুগী রাজশাহী মেডিকেলের ৮ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়। ডাক্তার রুগীর জন্য ছোট স্লিপে কয়েকটি ঔষধ লিখে দেন। রুগীর ছেলে সিজান দুপুর আনুমানিক ৩ টার সময় লক্ষীপুর মোড়ে অবস্থিত কানসার্ট ফার্মেসী থেকে বাঁকিতে ঔষধ কিনে নিয়ে যায়। তখন ঔষধের দাম ধরা হয় ৪৭৬০ টাকা। কিছু সময় পরে কানসার্ট ফার্মেসী থেকে রুগীর ছেলেকে ফোন দিয়ে টাকা পরিশোধ করতে বলে। সে সময় রুগীর এক আত্নীয়ের সন্দেহ হয় ঔষধের দাম নিয়ে। তিনি সরাসরি ফার্মেসীতে এসে ঔষধের দাম বেশির বিষয়টি অবগত করলে ফার্মেসীর মালিক বলে ঔষধ তার কর্মচারী বিক্রি করেছে। এবং দোকানের বাকীর খাতায় ৪৭৬০ টাকা লিখে রেখেছে। পরবর্তীতে তিনি পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঔষধের প্রকৃত দাম ১১৪০ টাকা নেন। ঔষধ বিক্রির সময় বিক্রয়মেমো প্রদান করেননি।
এবিষয়ে রুগীর ছেলে বলেন -“আমার মায়ের জন্য জরুরী ভাবে প্রতিটা ঔষধ ১ টা করে বাকীতে কিনে আনি এবং আমার মোবাইল নাম্বার দিয়ে আসি। ঔষধ কেনার পর ঔষধের দোকান থেকে কল করে বলে ৪৭৬০ টাকার ঔষধ বাকীতে নিয়ে গেছেন টাকাটা পরিশোধ করে যান। মোবাইলে কথা বলার সময় আমার পাশে আমার খালু উপস্থিত ছিলো।তিনি বিস্তারিত জেনে আমার সাথে ঔষধের দোকানে যায় এবং দোকানে গিয়ে দেখি তাদের একটি খাতায় আমার নামে ৪৭৬০ টাকা বাকী লিখা আছে। বিষয়টি নিয়ে আমি প্রতিবাদ করলে তিনি বলেন আমার কর্মচারী বিক্রি করেছে সেইই দামটা লিখে রেখেছে। প্রতিবাদের একপর্যায়ে ঔষধের দোকানের মালিক ঔষধের দাম ধরে ১১৪০ টাকা, এবং সেটা আমি পরিশোধ করি।”
এ বিষয়ে কানসার্ট ফার্মেসীর মালিক বলেন “ঔষধ বিক্রি করার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না আমার কর্মচারী নতুন সে ভূল করে দামটা বেশি লিখেছিলো। রুগীর লোকজন এসেছিলো আমি প্রকৃত দাম নিয়েছি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফার্মেসীর মালিক বলেন “লক্ষিপুরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছে তারা প্রায় সময়ই এমন কাজ করে তাছাড়া এখন ঈদের ছুটি সেজন্য অনেক দোকান বন্ধ তাই তারা সুযোগের অপব্যবহার করছে, কর্মচারী নতুন হলেও এতো বেশি দাম লিখার কোন সুযোগ নাই কারন প্রতিটি ঔষধের প্যাকেটে দাম নির্ধারন করা থাকে, প্যাকেট দেখে লিখলেও চারগুণ বেশি দাম লিখার কোন সুযোগ নাই, এটা ইচ্ছাকৃত ভাবে করেছে।”
ঈদের ছুটির জন্য ফার্মেসীর মালিকদের নিয়ে গঠিত রাজশাহী ড্রাগিষ্ট এন্ড কেমিস্ট সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে এবং ড্রাগ সুপারের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :