Dhaka ০২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
News Title :
বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে ছাড়, খরচ নিয়ন্ত্রণে বাড়ছে সুবিধা ওয়েজ বোর্ডসহ সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় তেলের দাম বাড়ল হাইকোর্টে বাড়ছে রিট নিষ্পত্তি: বিচারিক শৃঙ্খলায় কমবে মামলার চাপ কৃষকের চাহিদাকে অগ্রাধিকার : ৬৪ জেলায় শতভাগ সার বরাদ্দ বিএনপি সরকারের মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়নের সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে : প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন : বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ইসির প্রস্তুতি সভা আজ সাংবাদিকদের কারণেই দেশে গণতন্ত্র টিকে আছে : তথ্যমন্ত্রী শত বাধা ও কঠিন পথ পেরিয়ে বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিএনপি ৪৯ বছরে পা রাখছে বিএনপি, শহীদ জিয়ার ১৯ দফা এখনো দলের পথনির্দেশক

দুর্নীতির দায়ে পশ্চিমবঙ্গে ২৬ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
  • ৪ Time View

অনলাইন ডেস্ক : ব্যাপক দুর্নীতি ও জালিয়াতির জন্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ বাতিল করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একবছর আগে কলকাতা হাইকোর্ট এই ২৬ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল করেছিল।

এবার সেই রায় বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে তার মধ্যে কয়েকটি নতুন বিষয়ও যোগ করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, ২০১৬ সালে দেওয়া পরীক্ষার ভিত্তিতে যে ২৫ হাজার ৭৫২ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল, তার মধ্যে ব্যাপক দুর্নীতি ও জালিয়াতি হয়েছে। এখন এমন অবস্থা যেখানে যোগ্য ও অযোগ্যদের পুরোপুরি আলাদা করা সম্ভব নয়। অযোগ্য মানে যারা দুর্নীতি করে চাকরি পেয়েছিল।

তবে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, যারা অযোগ্য বলে প্রমাণিত, তাদের বেতন ফেরত দিতে হবে। অন্যদের বেতন ফেরত দিতে হবে না। সর্বোচ্চ আদালতের মতে, পুরো বিষয়টি মেরামত করার বাইরে চলে গেছে। তাই সকলের চাকরি বাতিল করা হয়েছে।

আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেছেন, “যে সব শিক্ষকদের কোনও দাগ নেই, তাদের বেতন ফেরত দিতে হবে না। অন্যদের ফেরত দিতে হবে। তার মতে, এটা নিয়ে আরেকটা জটিলতা তৈরি হতে পারে।”

এসএসসি সুপ্রিম কোর্টের কাছে পাঁচ হাজারের বেশি অযোগ্য শিক্ষকদের নামের তালিকা দিয়েছে। কিন্তু আদালতে বিকাশ রঞ্জন বলেছিলেন, ১০ হাজারের বেশি অযোগ্য শিক্ষক আছে।

কী বলেছে সুপ্রিম কোর্ট?
সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত, তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। ২০১৬ সালে যারা পরীক্ষায় বসেছিলেন এবং চাকরি পেয়েছিলেন, তাদের নতুন করে পরীক্ষায় বসতে হবে। তাদের বয়সসীমায় ছাড় দেওয়া হবে।

যদি কেউ ডেপুটেশনে শিক্ষকতার চাকরিতে এসে থাকেন, তারা তাদের পুরোনো দপ্তরে ফিরতে পারবেন। সর্বোচ্চ আদালতের মতে, গোটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দুর্নীতি ছিল। তবে ক্যান্সার আক্রান্ত শিক্ষক সোমা দাসের নিয়োগ বহাল থাকবে বলে প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন।

আইনজীবীরা যা বলেছেন
আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত বলেছেন, “যে পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে, তাতে সকলের চাকরি বাতিল করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। এই রায়ের সারমর্ম হলো, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকরা এবং গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি নিয়োগ পুরোটাই বাতিল করা হলো।”

আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেছেন, “পুরো প্রক্রিয়াটাই দুর্নীতিমূলক। যারা যোগ্য তারা অজান্তে এর মধ্যে পড়ে গেছেন। নিরপেক্ষতা বজায় থাকা উচিত। এভাবে বাছাই করা যায় না। নতুন পদ্ধতিতে দুর্নীতি যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। টাকা-পয়সা দিয়ে যারা চাকরি পেয়েছে, তারা বাদ পড়বেন।”

মিজোরামের অ্যাডভোকেট জেনারেল বিশ্বজিৎ দেব বলেছেন, “বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে। ২৬ হাজার মানুষের চাকরি গেল। আমরা যখন আইন শিখেছিলাম, তখন জেনেছিলাম, চারজন দোষী ছাড়া পাক, কিন্তু একজন নির্দোষ যেন শান্তি না পায়। রাজ্যের উচিত রিভিউ পিটিশন করা।”

চাকরিহারাদের প্রতিক্রিয়া
সুপ্রিম কোর্ট রায় দেওয়ার আগে থেকে কলকাতায় শহীদ মিনারের কাছে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এসেছিলেন। তাদের চোখ ছিল মোবাইলের ওপর। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তারা বলেন, যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে তারা চাকরি পেয়েছিলেন। তাদের কেন এই শাস্তি দেওয়া হলো? এতদিন পর তাদের আবার পরীক্ষায় বসতে হবে, সেই পরীক্ষায় তারা সফল হবেন তার কী নিশ্চয়তা আছে?

কলকাতার শক্তিগড় হাইস্কুলের রিজিয়া খাতুন বলেন, “বিশ্বাস করতে পারছি না, বিনা দোষে আমাদের এরকম শাস্তি হতে পারে। আমরা কোনও দোষ করিনি। তার জন্য আমাদের কেন শাস্তি দেওয়া হবে?”

Bangla Photocard Generatorv3.7

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে ছাড়, খরচ নিয়ন্ত্রণে বাড়ছে সুবিধা

দুর্নীতির দায়ে পশ্চিমবঙ্গে ২৬ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল

Update Time : ০৪:৫২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক : ব্যাপক দুর্নীতি ও জালিয়াতির জন্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ বাতিল করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একবছর আগে কলকাতা হাইকোর্ট এই ২৬ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল করেছিল।

এবার সেই রায় বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে তার মধ্যে কয়েকটি নতুন বিষয়ও যোগ করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, ২০১৬ সালে দেওয়া পরীক্ষার ভিত্তিতে যে ২৫ হাজার ৭৫২ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল, তার মধ্যে ব্যাপক দুর্নীতি ও জালিয়াতি হয়েছে। এখন এমন অবস্থা যেখানে যোগ্য ও অযোগ্যদের পুরোপুরি আলাদা করা সম্ভব নয়। অযোগ্য মানে যারা দুর্নীতি করে চাকরি পেয়েছিল।

তবে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, যারা অযোগ্য বলে প্রমাণিত, তাদের বেতন ফেরত দিতে হবে। অন্যদের বেতন ফেরত দিতে হবে না। সর্বোচ্চ আদালতের মতে, পুরো বিষয়টি মেরামত করার বাইরে চলে গেছে। তাই সকলের চাকরি বাতিল করা হয়েছে।

আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেছেন, “যে সব শিক্ষকদের কোনও দাগ নেই, তাদের বেতন ফেরত দিতে হবে না। অন্যদের ফেরত দিতে হবে। তার মতে, এটা নিয়ে আরেকটা জটিলতা তৈরি হতে পারে।”

এসএসসি সুপ্রিম কোর্টের কাছে পাঁচ হাজারের বেশি অযোগ্য শিক্ষকদের নামের তালিকা দিয়েছে। কিন্তু আদালতে বিকাশ রঞ্জন বলেছিলেন, ১০ হাজারের বেশি অযোগ্য শিক্ষক আছে।

কী বলেছে সুপ্রিম কোর্ট?
সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত, তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। ২০১৬ সালে যারা পরীক্ষায় বসেছিলেন এবং চাকরি পেয়েছিলেন, তাদের নতুন করে পরীক্ষায় বসতে হবে। তাদের বয়সসীমায় ছাড় দেওয়া হবে।

যদি কেউ ডেপুটেশনে শিক্ষকতার চাকরিতে এসে থাকেন, তারা তাদের পুরোনো দপ্তরে ফিরতে পারবেন। সর্বোচ্চ আদালতের মতে, গোটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দুর্নীতি ছিল। তবে ক্যান্সার আক্রান্ত শিক্ষক সোমা দাসের নিয়োগ বহাল থাকবে বলে প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন।

আইনজীবীরা যা বলেছেন
আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত বলেছেন, “যে পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে, তাতে সকলের চাকরি বাতিল করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। এই রায়ের সারমর্ম হলো, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকরা এবং গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি নিয়োগ পুরোটাই বাতিল করা হলো।”

আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেছেন, “পুরো প্রক্রিয়াটাই দুর্নীতিমূলক। যারা যোগ্য তারা অজান্তে এর মধ্যে পড়ে গেছেন। নিরপেক্ষতা বজায় থাকা উচিত। এভাবে বাছাই করা যায় না। নতুন পদ্ধতিতে দুর্নীতি যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। টাকা-পয়সা দিয়ে যারা চাকরি পেয়েছে, তারা বাদ পড়বেন।”

মিজোরামের অ্যাডভোকেট জেনারেল বিশ্বজিৎ দেব বলেছেন, “বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে। ২৬ হাজার মানুষের চাকরি গেল। আমরা যখন আইন শিখেছিলাম, তখন জেনেছিলাম, চারজন দোষী ছাড়া পাক, কিন্তু একজন নির্দোষ যেন শান্তি না পায়। রাজ্যের উচিত রিভিউ পিটিশন করা।”

চাকরিহারাদের প্রতিক্রিয়া
সুপ্রিম কোর্ট রায় দেওয়ার আগে থেকে কলকাতায় শহীদ মিনারের কাছে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এসেছিলেন। তাদের চোখ ছিল মোবাইলের ওপর। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তারা বলেন, যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে তারা চাকরি পেয়েছিলেন। তাদের কেন এই শাস্তি দেওয়া হলো? এতদিন পর তাদের আবার পরীক্ষায় বসতে হবে, সেই পরীক্ষায় তারা সফল হবেন তার কী নিশ্চয়তা আছে?

কলকাতার শক্তিগড় হাইস্কুলের রিজিয়া খাতুন বলেন, “বিশ্বাস করতে পারছি না, বিনা দোষে আমাদের এরকম শাস্তি হতে পারে। আমরা কোনও দোষ করিনি। তার জন্য আমাদের কেন শাস্তি দেওয়া হবে?”

Bangla Photocard Generatorv3.7