Dhaka ০২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
News Title :
বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে ছাড়, খরচ নিয়ন্ত্রণে বাড়ছে সুবিধা ওয়েজ বোর্ডসহ সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় তেলের দাম বাড়ল হাইকোর্টে বাড়ছে রিট নিষ্পত্তি: বিচারিক শৃঙ্খলায় কমবে মামলার চাপ কৃষকের চাহিদাকে অগ্রাধিকার : ৬৪ জেলায় শতভাগ সার বরাদ্দ বিএনপি সরকারের মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়নের সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে : প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন : বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ইসির প্রস্তুতি সভা আজ সাংবাদিকদের কারণেই দেশে গণতন্ত্র টিকে আছে : তথ্যমন্ত্রী শত বাধা ও কঠিন পথ পেরিয়ে বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিএনপি ৪৯ বছরে পা রাখছে বিএনপি, শহীদ জিয়ার ১৯ দফা এখনো দলের পথনির্দেশক

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে ছাড়, খরচ নিয়ন্ত্রণে বাড়ছে সুবিধা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ Time View

ছবি : সংগৃহীত
॥ ওবাইদুর রহমান ॥

অনলাইন ডেস্ক : ঢাকা, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ (বাসস) : বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার ব্যবহার বাড়াতে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। এ জন্য রিচার্জ করা এনার্জির ওপর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ ছাড় (রিবেট) দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব রাখা, প্রয়োজন অনুযায়ী রিচার্জ এবং খরচ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছে প্রিপেইড মিটারে। এর ফলে গ্রাহকের অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

এ সুবিধার আওতায় প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ, অবশিষ্ট ব্যালেন্স ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব সহজে জানা যায়। ফলে গ্রাহক প্রয়োজন অনুযায়ী রিচার্জ করতে পারেন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করে মাসিক খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। অন্যদিকে পোস্টপেইড মিটারে মাস শেষে বিলের পরিমাণ জানা যায় বলে আগে থেকে ব্যয়ের হিসাব রাখা তুলনামূলক কঠিন হয়ে পড়ে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রিপেইড মিটারের উল্লেখযোগ্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে- অগ্রিম রাজস্ব আদায়, সিস্টেম লস হ্রাস, ওভারলোড নিয়ন্ত্রণ, লোড ম্যানেজমেন্ট এবং বিলিংয়ের নির্ভুলতা এসেছে। এছাড়া বিল তৈরি ও বিতরণে জনবল ব্যয় কমানো, গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধি, জরুরি ব্যালেন্স ও ‘ফ্রেন্ডলি আওয়ার’ সুবিধা এবং সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনেও বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ভাড়াটিয়া ও সরকারি আবাসনে বিলিংসংক্রান্ত জটিলতা কমাতেও এ ব্যবস্থা ভূমিকা রাখছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ আরও জানায়, প্রিপেইড মিটারে গ্রাহক মোবাইল ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে যেকোনো সময় রিচার্জ করতে পারেন। এছাড়া বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার ভেন্ডিং স্টেশন, পিওএস এজেন্ট ও ব্যাংকের বুথ থেকেও রিচার্জের সুযোগ রয়েছে। ব্যালেন্স কমে গেলে মিটারে সতর্কসংকেত পাওয়া যায়। নির্ধারিত ‘ফ্রেন্ডলি আওয়ারে’ ব্যালেন্স শেষ হলেও জরুরি ক্রেডিট সুবিধায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ ব্যবস্থার অন্যতম সুবিধা হলো বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা পাওয়া। মিটারে থাকা ব্যালেন্স পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ফলে মাস শেষে হঠাৎ বড় অঙ্কের বিল আসার আশঙ্কাও তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা সালেহ হাসান বাসসকে বলেন, প্রিপেইড মিটারে মাসের শুরুতে কত টাকা রিচার্জ করছেন, তার ওপর নির্ভর করে তিনি মাসজুড়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। ঘরে বসেই সহজে মিটার রিচার্জ করা যায়। একই সঙ্গে মিটারে কত টাকা অবশিষ্ট আছে, সেটিও জানা যায়। ফলে প্রয়োজন ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহার না করার বিষয়ে তিনি এখন বেশি সচেতন।

বগুড়া শহরের বাসিন্দা ও নেসকোর গ্রাহক মুজাহিদ শেখও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বাসসকে বলেন, অল্প কিছুদিন আগে তার বাসায় প্রিপেইড মিটার বসানো হয়েছে। আগে মাস শেষে কত টাকা বিল আসবে, তা জানা যেত না। এখন তিনি পরিকল্পনা অনুযায়ী রিচার্জ করেন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন থাকেন।

তার মতে, প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে বিদ্যুতের মূল খরচ একই হলেও সচেতনভাবে ব্যবহার করলে প্রিপেইড মিটারে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং নেওয়া এবং সেই অনুযায়ী বিল তৈরি ও বিতরণের প্রয়োজন হয় না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এতে জনবল ও যাতায়াত ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি অগ্রিম বিল পরিশোধের কারণে বিতরণ সংস্থাগুলোর রাজস্ব আদায় সহজ হয় এবং বকেয়া বিল আদায়ের জটিলতা থাকছেন না।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, প্রিপেইড সংযোগ নিতে কোনো নিরাপত্তা জামানত দিতে হয় না। আবাসিক গ্রাহকের অনুমোদিত লোডের প্রতি কিলোওয়াটের জন্য মাসে ৪২ টাকা ডিমান্ড চার্জ ও ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার সরবরাহ করা মিটারের ক্ষেত্রে সিঙ্গেল ফেজ মিটারের মাসিক ভাড়া ৪০ টাকা এবং থ্রি ফেজ মিটারের ভাড়া ২৫০ টাকা। প্রতি মাসের প্রথম রিচার্জের সময় ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া সমন্বয় করা হয়। এরপর অবশিষ্ট অর্থের ওপর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ রিবেট যোগ হয়।

উদাহরণ অনুযায়ী, ২ কিলোওয়াট অনুমোদিত লোডের একজন আবাসিক গ্রাহক জানুয়ারিতে প্রথমবার ১ হাজার টাকা রিচার্জ করলে ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ ও মিটারের ভাড়া বাবদ ১৭১ টাকা ৬২ পয়সা কাটা হবে। অবশিষ্ট টাকার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ রিবেট যোগ হওয়ার পর বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মিটারে জমা থাকবে ৮৩২ টাকা ৫২ পয়সা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রিপেইড মিটারে কোনো ব্যালেন্স অবশিষ্ট থাকলে পরবর্তী মাসে নতুন করে রিচার্জ না করেও ওই অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়। কোনো মাসে রিচার্জ না করলে ওই মাসের এবং আগের মাসগুলোর প্রযোজ্য ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া পরবর্তী রিচার্জের সময় সমন্বয় করা হয়।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি এনালিস্ট শফিকুল আলম বাসসকে বলেন, প্রিপেইড মিটার নিয়ে গ্রাহকদের বিভিন্ন উদ্বেগ ও সমস্যা কমাতে এবং এ ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করতে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

উদাহরণস্বরূপ, ডেসকোর অ্যাপে মিটারের অবশিষ্ট ব্যালেন্স ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণসহ বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়, যা বিল নিয়ে গ্রাহকদের উদ্বেগ দূর করতে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া, জরুরি ব্যালেন্স ব্যবহারের সুবিধা থাকায় রিচার্জের টাকা শেষ হয়ে গেলেও গ্রাহকেরা সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এড়াতে পারেন।

তিনি বলেন, প্রিপেইড মিটারের বিভিন্ন সুবিধা ও ব্যবহারবিধি সম্পর্কে তথ্যের ঘাটতি এবং গ্রাহকদের উদ্বেগ কমাতে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ বিষয়ে তথ্য প্রচার করা যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) প্রায় ২০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ১২ লাখ গ্রাহক প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) ২৩ লাখের বেশি গ্রাহকের মধ্যে প্রিপেইড মিটারের আওতায় এসেছেন প্রায় ১৪ লাখ গ্রাহক।

অন্যদিকে, ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (ডেসকো) ১৪ লাখ ১১ হাজার ৪৩০ জন গ্রাহকের মধ্যে ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮১ জন প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) ১৭ লাখ ৫৫ হাজার ৯১৪ জন গ্রাহকের মধ্যে প্রিপেইড মিটার রয়েছে ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬২৭ জনের।

এর বাইরে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) অধীন গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ। এর মধ্যে প্রিপেইড মিটারের আওতায় এসেছেন প্রায় ১৫ লাখ গ্রাহক।

বিদ্যুত বিভাগ জানিয়েছে, প্রিপেইড মিটার সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা অভিযোগের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় হটলাইন ১৬৯৯৯ চালু রয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোও নিজস্ব হটলাইন চালু রেখেছে।

নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মশিউর রহমান বাসসকে বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব গ্রাহককে পর্যায়ক্রমে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হবে। এটা অনেকাংশে বাস্তবায়নও হয়েছে। শুরুতে কিছু এলাকায় গ্রাহকদের মধ্যে এ ব্যবস্থা নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব ছিল। তবে বর্তমানে তেমন সমস্যা নেই। ইতোমধ্যে নেসকোর ৬০ শতাংশের বেশি গ্রাহকের প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা অনুবিভাগ) নূর আহমদ বাসসকে বলেন, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে রিবেটসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। এতে গ্রাহকের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমতে পারে। বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার অপরিহার্য। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ কমিয়ে আনা সম্ভব।
সুত্র: বাসস

Bangla Photocard Generatorv3.7

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে ছাড়, খরচ নিয়ন্ত্রণে বাড়ছে সুবিধা

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে ছাড়, খরচ নিয়ন্ত্রণে বাড়ছে সুবিধা

Update Time : ১২:৪১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত
॥ ওবাইদুর রহমান ॥

অনলাইন ডেস্ক : ঢাকা, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ (বাসস) : বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার ব্যবহার বাড়াতে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। এ জন্য রিচার্জ করা এনার্জির ওপর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ ছাড় (রিবেট) দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব রাখা, প্রয়োজন অনুযায়ী রিচার্জ এবং খরচ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছে প্রিপেইড মিটারে। এর ফলে গ্রাহকের অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

এ সুবিধার আওতায় প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ, অবশিষ্ট ব্যালেন্স ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব সহজে জানা যায়। ফলে গ্রাহক প্রয়োজন অনুযায়ী রিচার্জ করতে পারেন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করে মাসিক খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। অন্যদিকে পোস্টপেইড মিটারে মাস শেষে বিলের পরিমাণ জানা যায় বলে আগে থেকে ব্যয়ের হিসাব রাখা তুলনামূলক কঠিন হয়ে পড়ে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রিপেইড মিটারের উল্লেখযোগ্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে- অগ্রিম রাজস্ব আদায়, সিস্টেম লস হ্রাস, ওভারলোড নিয়ন্ত্রণ, লোড ম্যানেজমেন্ট এবং বিলিংয়ের নির্ভুলতা এসেছে। এছাড়া বিল তৈরি ও বিতরণে জনবল ব্যয় কমানো, গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধি, জরুরি ব্যালেন্স ও ‘ফ্রেন্ডলি আওয়ার’ সুবিধা এবং সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনেও বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ভাড়াটিয়া ও সরকারি আবাসনে বিলিংসংক্রান্ত জটিলতা কমাতেও এ ব্যবস্থা ভূমিকা রাখছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ আরও জানায়, প্রিপেইড মিটারে গ্রাহক মোবাইল ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে যেকোনো সময় রিচার্জ করতে পারেন। এছাড়া বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার ভেন্ডিং স্টেশন, পিওএস এজেন্ট ও ব্যাংকের বুথ থেকেও রিচার্জের সুযোগ রয়েছে। ব্যালেন্স কমে গেলে মিটারে সতর্কসংকেত পাওয়া যায়। নির্ধারিত ‘ফ্রেন্ডলি আওয়ারে’ ব্যালেন্স শেষ হলেও জরুরি ক্রেডিট সুবিধায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ ব্যবস্থার অন্যতম সুবিধা হলো বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা পাওয়া। মিটারে থাকা ব্যালেন্স পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ফলে মাস শেষে হঠাৎ বড় অঙ্কের বিল আসার আশঙ্কাও তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা সালেহ হাসান বাসসকে বলেন, প্রিপেইড মিটারে মাসের শুরুতে কত টাকা রিচার্জ করছেন, তার ওপর নির্ভর করে তিনি মাসজুড়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। ঘরে বসেই সহজে মিটার রিচার্জ করা যায়। একই সঙ্গে মিটারে কত টাকা অবশিষ্ট আছে, সেটিও জানা যায়। ফলে প্রয়োজন ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহার না করার বিষয়ে তিনি এখন বেশি সচেতন।

বগুড়া শহরের বাসিন্দা ও নেসকোর গ্রাহক মুজাহিদ শেখও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বাসসকে বলেন, অল্প কিছুদিন আগে তার বাসায় প্রিপেইড মিটার বসানো হয়েছে। আগে মাস শেষে কত টাকা বিল আসবে, তা জানা যেত না। এখন তিনি পরিকল্পনা অনুযায়ী রিচার্জ করেন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন থাকেন।

তার মতে, প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে বিদ্যুতের মূল খরচ একই হলেও সচেতনভাবে ব্যবহার করলে প্রিপেইড মিটারে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং নেওয়া এবং সেই অনুযায়ী বিল তৈরি ও বিতরণের প্রয়োজন হয় না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এতে জনবল ও যাতায়াত ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি অগ্রিম বিল পরিশোধের কারণে বিতরণ সংস্থাগুলোর রাজস্ব আদায় সহজ হয় এবং বকেয়া বিল আদায়ের জটিলতা থাকছেন না।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, প্রিপেইড সংযোগ নিতে কোনো নিরাপত্তা জামানত দিতে হয় না। আবাসিক গ্রাহকের অনুমোদিত লোডের প্রতি কিলোওয়াটের জন্য মাসে ৪২ টাকা ডিমান্ড চার্জ ও ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার সরবরাহ করা মিটারের ক্ষেত্রে সিঙ্গেল ফেজ মিটারের মাসিক ভাড়া ৪০ টাকা এবং থ্রি ফেজ মিটারের ভাড়া ২৫০ টাকা। প্রতি মাসের প্রথম রিচার্জের সময় ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া সমন্বয় করা হয়। এরপর অবশিষ্ট অর্থের ওপর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ রিবেট যোগ হয়।

উদাহরণ অনুযায়ী, ২ কিলোওয়াট অনুমোদিত লোডের একজন আবাসিক গ্রাহক জানুয়ারিতে প্রথমবার ১ হাজার টাকা রিচার্জ করলে ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ ও মিটারের ভাড়া বাবদ ১৭১ টাকা ৬২ পয়সা কাটা হবে। অবশিষ্ট টাকার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ রিবেট যোগ হওয়ার পর বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মিটারে জমা থাকবে ৮৩২ টাকা ৫২ পয়সা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রিপেইড মিটারে কোনো ব্যালেন্স অবশিষ্ট থাকলে পরবর্তী মাসে নতুন করে রিচার্জ না করেও ওই অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়। কোনো মাসে রিচার্জ না করলে ওই মাসের এবং আগের মাসগুলোর প্রযোজ্য ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া পরবর্তী রিচার্জের সময় সমন্বয় করা হয়।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি এনালিস্ট শফিকুল আলম বাসসকে বলেন, প্রিপেইড মিটার নিয়ে গ্রাহকদের বিভিন্ন উদ্বেগ ও সমস্যা কমাতে এবং এ ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করতে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

উদাহরণস্বরূপ, ডেসকোর অ্যাপে মিটারের অবশিষ্ট ব্যালেন্স ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণসহ বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়, যা বিল নিয়ে গ্রাহকদের উদ্বেগ দূর করতে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া, জরুরি ব্যালেন্স ব্যবহারের সুবিধা থাকায় রিচার্জের টাকা শেষ হয়ে গেলেও গ্রাহকেরা সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এড়াতে পারেন।

তিনি বলেন, প্রিপেইড মিটারের বিভিন্ন সুবিধা ও ব্যবহারবিধি সম্পর্কে তথ্যের ঘাটতি এবং গ্রাহকদের উদ্বেগ কমাতে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ বিষয়ে তথ্য প্রচার করা যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) প্রায় ২০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ১২ লাখ গ্রাহক প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) ২৩ লাখের বেশি গ্রাহকের মধ্যে প্রিপেইড মিটারের আওতায় এসেছেন প্রায় ১৪ লাখ গ্রাহক।

অন্যদিকে, ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (ডেসকো) ১৪ লাখ ১১ হাজার ৪৩০ জন গ্রাহকের মধ্যে ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮১ জন প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) ১৭ লাখ ৫৫ হাজার ৯১৪ জন গ্রাহকের মধ্যে প্রিপেইড মিটার রয়েছে ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬২৭ জনের।

এর বাইরে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) অধীন গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ। এর মধ্যে প্রিপেইড মিটারের আওতায় এসেছেন প্রায় ১৫ লাখ গ্রাহক।

বিদ্যুত বিভাগ জানিয়েছে, প্রিপেইড মিটার সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা অভিযোগের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় হটলাইন ১৬৯৯৯ চালু রয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোও নিজস্ব হটলাইন চালু রেখেছে।

নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মশিউর রহমান বাসসকে বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব গ্রাহককে পর্যায়ক্রমে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হবে। এটা অনেকাংশে বাস্তবায়নও হয়েছে। শুরুতে কিছু এলাকায় গ্রাহকদের মধ্যে এ ব্যবস্থা নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব ছিল। তবে বর্তমানে তেমন সমস্যা নেই। ইতোমধ্যে নেসকোর ৬০ শতাংশের বেশি গ্রাহকের প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা অনুবিভাগ) নূর আহমদ বাসসকে বলেন, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে রিবেটসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। এতে গ্রাহকের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমতে পারে। বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার অপরিহার্য। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ কমিয়ে আনা সম্ভব।
সুত্র: বাসস

Bangla Photocard Generatorv3.7