Dhaka ০১:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
News Title :
ওয়েজ বোর্ডসহ সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় তেলের দাম বাড়ল হাইকোর্টে বাড়ছে রিট নিষ্পত্তি: বিচারিক শৃঙ্খলায় কমবে মামলার চাপ কৃষকের চাহিদাকে অগ্রাধিকার : ৬৪ জেলায় শতভাগ সার বরাদ্দ বিএনপি সরকারের মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়নের সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে : প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন : বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ইসির প্রস্তুতি সভা আজ সাংবাদিকদের কারণেই দেশে গণতন্ত্র টিকে আছে : তথ্যমন্ত্রী শত বাধা ও কঠিন পথ পেরিয়ে বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিএনপি ৪৯ বছরে পা রাখছে বিএনপি, শহীদ জিয়ার ১৯ দফা এখনো দলের পথনির্দেশক গুমের আগে কোথায় কীভাবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন, রোমহর্ষক বর্ণনা

সুনেত্রা চাপা অভিমান নিয়ে চলে গেছেন : অঞ্জনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২১:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪
  • ৪ Time View

অনলাইন ডেস্ক : দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুনেত্রা। দেড় মাস আগে গত ২৩ এপ্রিল কলকাতায় ৫৩ বছর বয়সে প্রয়াণ ঘটে এই অভিনেত্রীর। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সুনেত্রার মৃত্যুর খবর সামাজিক মাধ্যমে জানিয়ে দেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান।

শোনা যাচ্ছে, কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছিল চিত্রনায়িকা সুনেত্রার। আশি-নব্বইয়ের দশকে বড় পর্দার সাড়া জাগানো এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে এখন শোকসন্তপ্ত ঢালিউড তারকারা। তাদের একজন চিত্রনায়িকা অঞ্জনা; যিনি খুব কষ্ট পেয়েছেন সুনেত্রার মৃত্যুতে। মনের কষ্ট থেকে সুনেত্রাকে নিয়ে তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন।

শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে সুনেত্রার কিছু ছবি যোগ করে এক পোস্টে অঞ্জনা জানান, আশির দশকে সকল কিংবদন্তী চিত্রনায়কদের সাথে অভিনয় করে বাংলা সিনেমার জগতে অসংখ্য সুপারহিট, ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন চিত্রনায়িকা সুনেত্রা। অঞ্জনার উক্তি, ‘একরাশ কষ্ট নিয়ে সে (সুনেত্রা) এক সময় কলকাতায় পাড়ি জমায়। সেখানেও সে কিছু সংখ্যক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর একটি সময় লোক-চক্ষুর অন্তরালে চলে যায়। আর কখনোই কারও সামনে আসেনি। একবুক কষ্ট নিয়ে, বহু পাওয়া-না পাওয়ার বেদনায় জর্জরিত হয়ে, বড্ড অভিমান করে সে পড়পাড়ে পাড়ি দিয়েছে।’

চলচ্চিত্রের নোংরা রাজনীতির শিকার হয়েছিলেন সুনেত্রা, এমন কথাও ওই পোস্টে উল্লেখ করেন অঞ্জনা। তার কথায়, ‘আশির দশকে ফিল্মের ব্যাড পলিটিক্স এর কারণে সুনেত্রার মতো অনেক গুণী শিল্পীগণ বহুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অনেক ভালো রুচিসম্মত চলচ্চিত্র তুমি (সুনেত্রা) আমাদের উপহার দেওয়ার পরেও দিতে পারিনি জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় কোনো সম্মান। গুণীরা এভাবেই অনেক চাপা অভিমান নিয়ে চলে যায় না ফেরার দেশে। আমরা ব্যর্থ, তোমার মতো অনেক গুণী শিল্পীদের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার সঠিক সময়ে দিতে পারিনি বলে, মেধার মূল্যায়ন করতে পারিনি বলে।’

অঞ্জনার ওই ফেসবুক পোস্টের একটি ছবিতে দেখা যায়, একই ফ্রেমে রয়েছেন চিত্রনায়িকা নুতন, অঞ্জনা, শবনম ও সুনেত্রা। অঞ্জনার সঙ্গে সুনেত্রার বোনের মত সম্পর্ক ছিল, তাও স্পষ্ট। অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘অনন্ত লোকে শান্তিতে থাকো বোন, এতোটা কষ্ট পেলাম যা ভাষায় প্রকাশ করবার মতো না।’

পরিশেষে অঞ্জনার অভিব্যক্তির মর্ম, প্রাপ্ত মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে সুনেত্রা নিজেকে অন্তরালে নিয়ে যান। একাকী থাকার সিদ্ধান্ত থেকেই নিজেকে গুটিয়ে নেন প্রয়াত এই অভিনেত্রী।

জাফর ইকবালের বিপরীতে ‘ঘর ভাঙা ঘর’ ছবিটিকেই সুনেত্রা অভিনীত সর্বশেষ বাংলাদেশি ছবি বলে ধরা হয়। এটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৯২ সালে। এরপর কিছুদিন কাজ করেন কলকাতার ছবিতে। ১৯৯৯ সালের সেখানে সর্বশেষ সুনেত্রা অভিনীত ‘দানব’ ছবিটি মুক্তি পায়। সেই ছবিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন কলকাতার শক্তিমান অভিনেতা ভিক্টর ব্যানার্জির বিপরীতে।

কলকাতায় তিনি কাজ করেছেন ‘সিঁথির সিঁধুর’, ‘মনসা কন্যা’ ইত্যাদি ছবিগুলোতে। তিনি ‘তালাশ’, ‘শূন্যে কি তালাশ’ নামের দুটি উর্দু ছবিতেও অভিনয় করেছেন। পাকিস্তানের টিভি নাটকেও সুনেত্রা ছড়িয়েছেন অভিনয়ের দ্যুতি।

১৯৭০ সালের ৭ জুলাই সুনেত্রা জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার এক সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারে। পারিবারিক নাম তার রিনা সুনেত্রা কুমার। দুই ভাইবোনের মধ্যে সুনেত্রা ছোট। তিনি মাধ্যমিক শেষ করেছিলেন কলকাতার গখলে মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুলে। পরবর্তীতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি প্রাণিবিদ্যায় মাস্টার্স ডিগ্রি নেন। ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতি চর্চার প্রতি মনোযোগী ছিলেন তিনি। নাচ, গান ও অভিনয়ে নিজেকে তৈরি করেছিলেন।

Bangla Photocard Generatorv3.7

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ওয়েজ বোর্ডসহ সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

সুনেত্রা চাপা অভিমান নিয়ে চলে গেছেন : অঞ্জনা

Update Time : ১২:২১:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

অনলাইন ডেস্ক : দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুনেত্রা। দেড় মাস আগে গত ২৩ এপ্রিল কলকাতায় ৫৩ বছর বয়সে প্রয়াণ ঘটে এই অভিনেত্রীর। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সুনেত্রার মৃত্যুর খবর সামাজিক মাধ্যমে জানিয়ে দেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান।

শোনা যাচ্ছে, কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছিল চিত্রনায়িকা সুনেত্রার। আশি-নব্বইয়ের দশকে বড় পর্দার সাড়া জাগানো এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে এখন শোকসন্তপ্ত ঢালিউড তারকারা। তাদের একজন চিত্রনায়িকা অঞ্জনা; যিনি খুব কষ্ট পেয়েছেন সুনেত্রার মৃত্যুতে। মনের কষ্ট থেকে সুনেত্রাকে নিয়ে তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন।

শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে সুনেত্রার কিছু ছবি যোগ করে এক পোস্টে অঞ্জনা জানান, আশির দশকে সকল কিংবদন্তী চিত্রনায়কদের সাথে অভিনয় করে বাংলা সিনেমার জগতে অসংখ্য সুপারহিট, ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন চিত্রনায়িকা সুনেত্রা। অঞ্জনার উক্তি, ‘একরাশ কষ্ট নিয়ে সে (সুনেত্রা) এক সময় কলকাতায় পাড়ি জমায়। সেখানেও সে কিছু সংখ্যক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর একটি সময় লোক-চক্ষুর অন্তরালে চলে যায়। আর কখনোই কারও সামনে আসেনি। একবুক কষ্ট নিয়ে, বহু পাওয়া-না পাওয়ার বেদনায় জর্জরিত হয়ে, বড্ড অভিমান করে সে পড়পাড়ে পাড়ি দিয়েছে।’

চলচ্চিত্রের নোংরা রাজনীতির শিকার হয়েছিলেন সুনেত্রা, এমন কথাও ওই পোস্টে উল্লেখ করেন অঞ্জনা। তার কথায়, ‘আশির দশকে ফিল্মের ব্যাড পলিটিক্স এর কারণে সুনেত্রার মতো অনেক গুণী শিল্পীগণ বহুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অনেক ভালো রুচিসম্মত চলচ্চিত্র তুমি (সুনেত্রা) আমাদের উপহার দেওয়ার পরেও দিতে পারিনি জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় কোনো সম্মান। গুণীরা এভাবেই অনেক চাপা অভিমান নিয়ে চলে যায় না ফেরার দেশে। আমরা ব্যর্থ, তোমার মতো অনেক গুণী শিল্পীদের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার সঠিক সময়ে দিতে পারিনি বলে, মেধার মূল্যায়ন করতে পারিনি বলে।’

অঞ্জনার ওই ফেসবুক পোস্টের একটি ছবিতে দেখা যায়, একই ফ্রেমে রয়েছেন চিত্রনায়িকা নুতন, অঞ্জনা, শবনম ও সুনেত্রা। অঞ্জনার সঙ্গে সুনেত্রার বোনের মত সম্পর্ক ছিল, তাও স্পষ্ট। অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘অনন্ত লোকে শান্তিতে থাকো বোন, এতোটা কষ্ট পেলাম যা ভাষায় প্রকাশ করবার মতো না।’

পরিশেষে অঞ্জনার অভিব্যক্তির মর্ম, প্রাপ্ত মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে সুনেত্রা নিজেকে অন্তরালে নিয়ে যান। একাকী থাকার সিদ্ধান্ত থেকেই নিজেকে গুটিয়ে নেন প্রয়াত এই অভিনেত্রী।

জাফর ইকবালের বিপরীতে ‘ঘর ভাঙা ঘর’ ছবিটিকেই সুনেত্রা অভিনীত সর্বশেষ বাংলাদেশি ছবি বলে ধরা হয়। এটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৯২ সালে। এরপর কিছুদিন কাজ করেন কলকাতার ছবিতে। ১৯৯৯ সালের সেখানে সর্বশেষ সুনেত্রা অভিনীত ‘দানব’ ছবিটি মুক্তি পায়। সেই ছবিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন কলকাতার শক্তিমান অভিনেতা ভিক্টর ব্যানার্জির বিপরীতে।

কলকাতায় তিনি কাজ করেছেন ‘সিঁথির সিঁধুর’, ‘মনসা কন্যা’ ইত্যাদি ছবিগুলোতে। তিনি ‘তালাশ’, ‘শূন্যে কি তালাশ’ নামের দুটি উর্দু ছবিতেও অভিনয় করেছেন। পাকিস্তানের টিভি নাটকেও সুনেত্রা ছড়িয়েছেন অভিনয়ের দ্যুতি।

১৯৭০ সালের ৭ জুলাই সুনেত্রা জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার এক সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারে। পারিবারিক নাম তার রিনা সুনেত্রা কুমার। দুই ভাইবোনের মধ্যে সুনেত্রা ছোট। তিনি মাধ্যমিক শেষ করেছিলেন কলকাতার গখলে মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুলে। পরবর্তীতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি প্রাণিবিদ্যায় মাস্টার্স ডিগ্রি নেন। ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতি চর্চার প্রতি মনোযোগী ছিলেন তিনি। নাচ, গান ও অভিনয়ে নিজেকে তৈরি করেছিলেন।

Bangla Photocard Generatorv3.7