Dhaka ০৮:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
News Title :
হাইকোর্টে বাড়ছে রিট নিষ্পত্তি: বিচারিক শৃঙ্খলায় কমবে মামলার চাপ কৃষকের চাহিদাকে অগ্রাধিকার : ৬৪ জেলায় শতভাগ সার বরাদ্দ বিএনপি সরকারের মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়নের সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে : প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন : বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ইসির প্রস্তুতি সভা আজ সাংবাদিকদের কারণেই দেশে গণতন্ত্র টিকে আছে : তথ্যমন্ত্রী শত বাধা ও কঠিন পথ পেরিয়ে বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিএনপি ৪৯ বছরে পা রাখছে বিএনপি, শহীদ জিয়ার ১৯ দফা এখনো দলের পথনির্দেশক গুমের আগে কোথায় কীভাবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন, রোমহর্ষক বর্ণনা পেশাদারিত্ব বজায় রেখে বাসসকে বিশ্বমানের সংস্থায় রূপান্তর করা হবে : কাদের গনি চৌধুরী ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের কারিকুলামে ব্যাপক সংস্কার আনছে সরকার : মাহদী আমিন

নির্বাচনী উৎসবে দেশ: ইসির প্রস্তুতি প্রায় শতভাগ, নজর ভোটার আস্থায়

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫ Time View
ফাইল ছবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম হয়ে উঠেছে। অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে।

রাজধানী থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যন্ত নির্বাচনযন্ত্র সচল রাখতে যে বিশাল প্রশাসনিক কাঠামো প্রয়োজন, তা এখন শেষ পর্যায়ে। কমিশনের ভাষায়-‘ভোটের সব আয়োজন সম্পন্ন, এখন শুধু জনগণের অংশগ্রহণের অপেক্ষা।’

ইসির সূত্রে জানা গেছে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক সময়সূচি নির্ধারিত রয়েছে। ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, আসন সীমানা পুনর্বিন্যাস, নির্র্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, নির্বাচনী বিধান সংশোধনসহ প্রায় সব প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আজ জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, ‘আমরা একটি উৎসবমুখর, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। এজন্য যেকোনো প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত বা আইনগত প্রস্তুতির ঘাটতি যেন না থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করছি।’

তিনি জানান, ভোটার তালিকা ও কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার হালনাগাদের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এ বছর প্রায় ২৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ভোটার ৫২ শতাংশ।

কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৭ হাজার ৫০৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪১ লাখ ৪৫৫ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২২ লাখ ৫ হাজার ৮১৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩০ জন। সারাদেশে ভোট গ্রহণের জন্য ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরুষদের জন্য ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি এবং নারীদের জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি ভোটকক্ষ রাখা হয়েছে।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ শেষ। রাজনৈতিক দল ও পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন চূড়ান্ত হলেই শতভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।’

তিনি জানান, কমিশনের কাজ সময়মতো শেষ করতে ১৮টি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টাস্কফোর্স নির্দিষ্ট দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে। যেমন- কোনোটি লজিস্টিক, কোনোটি আইটি বা নিরাপত্তা বিষয়ক।

প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আচরণবিধি সংশোধন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) হালনাগাদ, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও প্রায় সম্পন্ন। সংশোধিত আরপিও-২০২৫ অনুযায়ী, এবার ‘না ভোট’ পুনর্বহাল করা হয়েছে, ইভিএম ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা বাতিল হয়েছে এবং প্রার্থীর সম্পদ, আয় ও কর সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া অনুদানে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার বাধ্যতামূলক, পলাতক আসামিদের প্রার্থিতা নিষিদ্ধ এবং নির্বাচনী জামানত ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন বলছে, এই সংস্কারগুলো নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াবে।

ইসি সচিব বলেন, ‘ভোট শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, এটি আস্থার বিষয়। সেই আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।’

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায়ও জোর দিয়েছে কমিশন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে একাধিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ভোটের আগে তিন দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পর চার দিনসহ মোট আট দিন মাঠে থাকবে বাহিনী। এতে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ, এক লাখ সেনাসদস্য এবং আনসার-ভিডিপির সাড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

ইসি জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও আচরণবিধি তৈরি করা হয়েছে যাতে তারা ভোটের সময় নিরপেক্ষ ও পেশাদার ভূমিকা রাখতে পারেন।

এছাড়া নির্বাচনকালীন ডিজিটাল নিরাপত্তা রক্ষায় প্রথমবারের মতো ‘মিসইনফরমেশন মনিটরিং সেল’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে কমিশন। এই সেল ভুয়া তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং অনলাইন গুজব পর্যবেক্ষণ করবে। এ বিষয়ে এনটিএমসি, বিটিআরসি, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আইসিটি বিভাগের সহযোগিতায় একটি সমন্বিত ড্যাশবোর্ড তৈরি হচ্ছে।

প্রবাসী ভোটারদের জন্যও এবার বড় উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।  ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত ভোটাররা ডাকে ভোট দিতে পারবেন।

কমিশন জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ১১টি দেশে ইতোমধ্যে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন শুরু হয়েছে। আগামী বছর আরও আটটি দেশে এই সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা টিকিয়ে রাখতে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহিতুল হক বলেন, ‘নির্বাচনের আগে কমিশনের স্বচ্ছতা ও দৃঢ় মনোভাবই জনগণের আস্থা ফেরানোর প্রথম ধাপ। যদি নির্বাচন কমিশন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে, তাহলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব।’

ভোটের প্রযুক্তিগত দিকেও নতুনত্ব আনছে ইসি। ভোটার ডেটাবেইস ও কেন্দ্রীয় সার্ভারে নিরাপত্তা বাড়াতে সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আপগ্রেড করা হয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো ভোটের দিন জেলা পর্যায়ের কন্ট্রোল রুম থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে রিয়েল-টাইম আপডেট মনিটর করা হবে ।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘এবার আমরা একেবারে প্রক্রিয়াগত ব্যর্থতা শূন্যে নামিয়ে আনতে চাই। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের ডিজিটালি হিসাব থাকবে, যা সরাসরি কমিশনে রিপোর্ট হবে।’

নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছে রাজনৈতিক দলগুলো। শীর্ষ তিনটি দল প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ইসি বলছে, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, প্রতীক বরাদ্দের কাজ নভেম্বরেই শেষ হবে। প্রার্থীদের হলফনামা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে, যা এনবিআর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্য যাচাই করবে।

ইসি বলছে, নির্বাচন শুধু প্রশাসনিক আয়োজন নয়, এটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের উৎসব।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘জনগণ যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারেন, তবেই নির্বাচনের সাফল্য সেখানেই। আমরা চাই, প্রতিটি ভোটার যেন নিরাপদে ও আনন্দের সঙ্গে ভোট দিতে পারেন।’

জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গ্রামীণ পর্যায়ে গণসচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু হয়েছে। রেডিও, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে পোস্টার, ব্যানার ও শর্ট ভিডিওর মাধ্যমে ভোটারদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য ও প্রচার বিভাগ জানায়, এবার ভোটার সচেতনতা কর্মসূচিতে বিশেষভাবে নারী ও তরুণ ভোটারদের টার্গেট করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা চাই, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের সক্রিয় ভোটার হিসেবে দেখতে। তাদের অংশগ্রহণ বাড়লেই নির্বাচনে প্রাণ ফিরে আসবে।’

সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের চোখ এখন এক জায়গায়- কেমন হয় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন। ইসি বলছে, তাদের প্রস্তুতি শতভাগ, আর বাকিটা দেশের জনগণের হাতে।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের ভাষায়, ‘এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আরেকটি মাইলফলক হবে। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই এবার প্রকৃত বিজয়ী হবে।’

বাসস

Bangla Photocard Generatorv3.7

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

হাইকোর্টে বাড়ছে রিট নিষ্পত্তি: বিচারিক শৃঙ্খলায় কমবে মামলার চাপ

নির্বাচনী উৎসবে দেশ: ইসির প্রস্তুতি প্রায় শতভাগ, নজর ভোটার আস্থায়

Update Time : ১০:০০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
ফাইল ছবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম হয়ে উঠেছে। অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে।

রাজধানী থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যন্ত নির্বাচনযন্ত্র সচল রাখতে যে বিশাল প্রশাসনিক কাঠামো প্রয়োজন, তা এখন শেষ পর্যায়ে। কমিশনের ভাষায়-‘ভোটের সব আয়োজন সম্পন্ন, এখন শুধু জনগণের অংশগ্রহণের অপেক্ষা।’

ইসির সূত্রে জানা গেছে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক সময়সূচি নির্ধারিত রয়েছে। ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, আসন সীমানা পুনর্বিন্যাস, নির্র্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, নির্বাচনী বিধান সংশোধনসহ প্রায় সব প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আজ জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, ‘আমরা একটি উৎসবমুখর, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। এজন্য যেকোনো প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত বা আইনগত প্রস্তুতির ঘাটতি যেন না থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করছি।’

তিনি জানান, ভোটার তালিকা ও কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার হালনাগাদের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এ বছর প্রায় ২৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ভোটার ৫২ শতাংশ।

কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৭ হাজার ৫০৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪১ লাখ ৪৫৫ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২২ লাখ ৫ হাজার ৮১৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩০ জন। সারাদেশে ভোট গ্রহণের জন্য ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরুষদের জন্য ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি এবং নারীদের জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি ভোটকক্ষ রাখা হয়েছে।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ শেষ। রাজনৈতিক দল ও পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন চূড়ান্ত হলেই শতভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।’

তিনি জানান, কমিশনের কাজ সময়মতো শেষ করতে ১৮টি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টাস্কফোর্স নির্দিষ্ট দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে। যেমন- কোনোটি লজিস্টিক, কোনোটি আইটি বা নিরাপত্তা বিষয়ক।

প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আচরণবিধি সংশোধন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) হালনাগাদ, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও প্রায় সম্পন্ন। সংশোধিত আরপিও-২০২৫ অনুযায়ী, এবার ‘না ভোট’ পুনর্বহাল করা হয়েছে, ইভিএম ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা বাতিল হয়েছে এবং প্রার্থীর সম্পদ, আয় ও কর সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া অনুদানে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার বাধ্যতামূলক, পলাতক আসামিদের প্রার্থিতা নিষিদ্ধ এবং নির্বাচনী জামানত ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন বলছে, এই সংস্কারগুলো নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াবে।

ইসি সচিব বলেন, ‘ভোট শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, এটি আস্থার বিষয়। সেই আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।’

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায়ও জোর দিয়েছে কমিশন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে একাধিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ভোটের আগে তিন দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পর চার দিনসহ মোট আট দিন মাঠে থাকবে বাহিনী। এতে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ, এক লাখ সেনাসদস্য এবং আনসার-ভিডিপির সাড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

ইসি জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও আচরণবিধি তৈরি করা হয়েছে যাতে তারা ভোটের সময় নিরপেক্ষ ও পেশাদার ভূমিকা রাখতে পারেন।

এছাড়া নির্বাচনকালীন ডিজিটাল নিরাপত্তা রক্ষায় প্রথমবারের মতো ‘মিসইনফরমেশন মনিটরিং সেল’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে কমিশন। এই সেল ভুয়া তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং অনলাইন গুজব পর্যবেক্ষণ করবে। এ বিষয়ে এনটিএমসি, বিটিআরসি, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আইসিটি বিভাগের সহযোগিতায় একটি সমন্বিত ড্যাশবোর্ড তৈরি হচ্ছে।

প্রবাসী ভোটারদের জন্যও এবার বড় উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।  ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত ভোটাররা ডাকে ভোট দিতে পারবেন।

কমিশন জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ১১টি দেশে ইতোমধ্যে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন শুরু হয়েছে। আগামী বছর আরও আটটি দেশে এই সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা টিকিয়ে রাখতে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহিতুল হক বলেন, ‘নির্বাচনের আগে কমিশনের স্বচ্ছতা ও দৃঢ় মনোভাবই জনগণের আস্থা ফেরানোর প্রথম ধাপ। যদি নির্বাচন কমিশন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে, তাহলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব।’

ভোটের প্রযুক্তিগত দিকেও নতুনত্ব আনছে ইসি। ভোটার ডেটাবেইস ও কেন্দ্রীয় সার্ভারে নিরাপত্তা বাড়াতে সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আপগ্রেড করা হয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো ভোটের দিন জেলা পর্যায়ের কন্ট্রোল রুম থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে রিয়েল-টাইম আপডেট মনিটর করা হবে ।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘এবার আমরা একেবারে প্রক্রিয়াগত ব্যর্থতা শূন্যে নামিয়ে আনতে চাই। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের ডিজিটালি হিসাব থাকবে, যা সরাসরি কমিশনে রিপোর্ট হবে।’

নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছে রাজনৈতিক দলগুলো। শীর্ষ তিনটি দল প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ইসি বলছে, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, প্রতীক বরাদ্দের কাজ নভেম্বরেই শেষ হবে। প্রার্থীদের হলফনামা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে, যা এনবিআর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্য যাচাই করবে।

ইসি বলছে, নির্বাচন শুধু প্রশাসনিক আয়োজন নয়, এটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের উৎসব।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘জনগণ যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারেন, তবেই নির্বাচনের সাফল্য সেখানেই। আমরা চাই, প্রতিটি ভোটার যেন নিরাপদে ও আনন্দের সঙ্গে ভোট দিতে পারেন।’

জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গ্রামীণ পর্যায়ে গণসচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু হয়েছে। রেডিও, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে পোস্টার, ব্যানার ও শর্ট ভিডিওর মাধ্যমে ভোটারদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য ও প্রচার বিভাগ জানায়, এবার ভোটার সচেতনতা কর্মসূচিতে বিশেষভাবে নারী ও তরুণ ভোটারদের টার্গেট করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা চাই, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের সক্রিয় ভোটার হিসেবে দেখতে। তাদের অংশগ্রহণ বাড়লেই নির্বাচনে প্রাণ ফিরে আসবে।’

সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের চোখ এখন এক জায়গায়- কেমন হয় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন। ইসি বলছে, তাদের প্রস্তুতি শতভাগ, আর বাকিটা দেশের জনগণের হাতে।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের ভাষায়, ‘এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আরেকটি মাইলফলক হবে। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই এবার প্রকৃত বিজয়ী হবে।’

বাসস

Bangla Photocard Generatorv3.7