Dhaka ০৯:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
News Title :
হাইকোর্টে বাড়ছে রিট নিষ্পত্তি: বিচারিক শৃঙ্খলায় কমবে মামলার চাপ কৃষকের চাহিদাকে অগ্রাধিকার : ৬৪ জেলায় শতভাগ সার বরাদ্দ বিএনপি সরকারের মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়নের সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে : প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন : বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ইসির প্রস্তুতি সভা আজ সাংবাদিকদের কারণেই দেশে গণতন্ত্র টিকে আছে : তথ্যমন্ত্রী শত বাধা ও কঠিন পথ পেরিয়ে বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিএনপি ৪৯ বছরে পা রাখছে বিএনপি, শহীদ জিয়ার ১৯ দফা এখনো দলের পথনির্দেশক গুমের আগে কোথায় কীভাবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন, রোমহর্ষক বর্ণনা পেশাদারিত্ব বজায় রেখে বাসসকে বিশ্বমানের সংস্থায় রূপান্তর করা হবে : কাদের গনি চৌধুরী ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের কারিকুলামে ব্যাপক সংস্কার আনছে সরকার : মাহদী আমিন

নির্বাচন প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ Time View

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আজ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

ঢাকা, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন প্রস্তুতি ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে জানান, নির্বাচন আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি। এ প্রেক্ষাপটে আজকের বৈঠকে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি—এই দুই দিকই গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। নির্বাচন সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি রিভিউ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ। এ ছাড়া তিন বাহিনী প্রধান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‌্যাব, আনসার ও কোস্ট গার্ডসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস সচিব জানান, নির্বাচন কমিশন সভায় নিশ্চিত করেছে যে ৩০০ আসনে একই দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে—এই দুই আসনসহ সব আসনেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে নির্বাচন হবে।

তিনি জানান, আজ প্রতীক বরাদ্দের দিন। আজ মধ্যরাত থেকে পোস্টাল ব্যালট ছাপা শুরু হবে এবং আগামীকাল সকাল থেকে তা পূর্ণমাত্রায় চলবে।

নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে মোট ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় প্রথমবারের মতো আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৬৪ জন জেলা প্রশাসক রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ মোট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সংখ্যা ৫৯৮ জন।

মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, মোট ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ৮৭ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৪৮১ জন। যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ১ হাজার ৮৪২ জন। এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে ৫১টি রাজনৈতিক দল।

আপিলের বিষয়ে তিনি জানান, মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে মোট ৬৪৫টি আপিল করা হয়। এর মধ্যে ৪২৫টি আপিল মঞ্জুর, ২০৬টি নামঞ্জুর এবং ১৪টি আপিল প্রত্যাহার করা হয়েছে।

নির্বাচনী অবকাঠামো সম্পর্কে প্রেস সচিব বলেন, সারা দেশে ৩০০টি নির্বাচনী আসনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি এবং ভোটিং বুথ ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৯৯টি। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি।

আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩০০টি আসনে ৩০০টি নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের আগে চার দিন, ভোটের দিন ও ভোটের পর দুই দিন—মোট আট দিনের জন্য ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম ১৫ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সাধারণ ভোটকেন্দ্রে এই সংখ্যা ১৫ থেকে ১৭ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ থেকে ১৯ জন পর্যন্ত হতে পারে।

প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া পুলিশ, আনসার, ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হবে।

প্রেস সচিব জানান, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে ২৫ হাজার ৫০০টি বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এসব ক্যামেরা ইতোমধ্যে সরবরাহ ও ব্যবহারোপযোগী হয়েছে। আজ বৈঠকে বডি ক্যামেরার লাইভ ট্রায়াল দেখানো হয়, যেখানে একটি ভোটকেন্দ্র সরাসরি মনিটর করা হয়।

বডি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রয়োজনে লাইভ স্ট্রিমিং ও এসওএস পাঠানো যাবে। এসওএস সক্রিয় হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা অ্যাপ চালু হবে, যার মাধ্যমে জেলা, উপজেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা যাবে।

তিনি বলেন, কোথাও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দ্রুত সাড়া দেবে। এবার প্রথমবারের মতো এক লাখের বেশি সেনাসদস্য, পাঁচ হাজারের বেশি নৌবাহিনী সদস্য এবং তিন হাজার ৭৩০ জনের বেশি বিমানবাহিনী সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিসসহ বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন উদ্যোগ হিসেবে প্রায় ৫০০ ড্রোন ও ৫০টি ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ড্রোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের জন্য একটি কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়।

প্রেস সচিব আরও জানান, ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ্লিকেশন’ ব্যবহার করা হবে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কেন্দ্রভিত্তিকভাবে ব্যবহার করবেন। জানুয়ারির মধ্যেই অধিকাংশ নিরাপত্তা সদস্যের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে শফিকুল আলম বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেছেন—এই নির্বাচন যেন নিখুঁতভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশ গর্ব করে বলতে পারে, এটি একটি ভালো নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সুত্র; বাসস

Bangla Photocard Generatorv3.7

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

হাইকোর্টে বাড়ছে রিট নিষ্পত্তি: বিচারিক শৃঙ্খলায় কমবে মামলার চাপ

নির্বাচন প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক 

Update Time : ০৯:৪৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আজ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

ঢাকা, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন প্রস্তুতি ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে জানান, নির্বাচন আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি। এ প্রেক্ষাপটে আজকের বৈঠকে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি—এই দুই দিকই গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। নির্বাচন সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি রিভিউ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ। এ ছাড়া তিন বাহিনী প্রধান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‌্যাব, আনসার ও কোস্ট গার্ডসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস সচিব জানান, নির্বাচন কমিশন সভায় নিশ্চিত করেছে যে ৩০০ আসনে একই দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে—এই দুই আসনসহ সব আসনেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে নির্বাচন হবে।

তিনি জানান, আজ প্রতীক বরাদ্দের দিন। আজ মধ্যরাত থেকে পোস্টাল ব্যালট ছাপা শুরু হবে এবং আগামীকাল সকাল থেকে তা পূর্ণমাত্রায় চলবে।

নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে মোট ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় প্রথমবারের মতো আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৬৪ জন জেলা প্রশাসক রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ মোট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সংখ্যা ৫৯৮ জন।

মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, মোট ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ৮৭ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৪৮১ জন। যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ১ হাজার ৮৪২ জন। এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে ৫১টি রাজনৈতিক দল।

আপিলের বিষয়ে তিনি জানান, মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে মোট ৬৪৫টি আপিল করা হয়। এর মধ্যে ৪২৫টি আপিল মঞ্জুর, ২০৬টি নামঞ্জুর এবং ১৪টি আপিল প্রত্যাহার করা হয়েছে।

নির্বাচনী অবকাঠামো সম্পর্কে প্রেস সচিব বলেন, সারা দেশে ৩০০টি নির্বাচনী আসনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি এবং ভোটিং বুথ ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৯৯টি। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি।

আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩০০টি আসনে ৩০০টি নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের আগে চার দিন, ভোটের দিন ও ভোটের পর দুই দিন—মোট আট দিনের জন্য ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম ১৫ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সাধারণ ভোটকেন্দ্রে এই সংখ্যা ১৫ থেকে ১৭ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ থেকে ১৯ জন পর্যন্ত হতে পারে।

প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া পুলিশ, আনসার, ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হবে।

প্রেস সচিব জানান, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে ২৫ হাজার ৫০০টি বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এসব ক্যামেরা ইতোমধ্যে সরবরাহ ও ব্যবহারোপযোগী হয়েছে। আজ বৈঠকে বডি ক্যামেরার লাইভ ট্রায়াল দেখানো হয়, যেখানে একটি ভোটকেন্দ্র সরাসরি মনিটর করা হয়।

বডি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রয়োজনে লাইভ স্ট্রিমিং ও এসওএস পাঠানো যাবে। এসওএস সক্রিয় হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা অ্যাপ চালু হবে, যার মাধ্যমে জেলা, উপজেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা যাবে।

তিনি বলেন, কোথাও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দ্রুত সাড়া দেবে। এবার প্রথমবারের মতো এক লাখের বেশি সেনাসদস্য, পাঁচ হাজারের বেশি নৌবাহিনী সদস্য এবং তিন হাজার ৭৩০ জনের বেশি বিমানবাহিনী সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিসসহ বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন উদ্যোগ হিসেবে প্রায় ৫০০ ড্রোন ও ৫০টি ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ড্রোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের জন্য একটি কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়।

প্রেস সচিব আরও জানান, ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ্লিকেশন’ ব্যবহার করা হবে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কেন্দ্রভিত্তিকভাবে ব্যবহার করবেন। জানুয়ারির মধ্যেই অধিকাংশ নিরাপত্তা সদস্যের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে শফিকুল আলম বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেছেন—এই নির্বাচন যেন নিখুঁতভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশ গর্ব করে বলতে পারে, এটি একটি ভালো নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সুত্র; বাসস

Bangla Photocard Generatorv3.7