Dhaka ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফলাফল পুলিশের জন্যে ৫,৮৩০টি যানবাহন ক্রয়ে ৬,৬০৮ কোটি টাকার প্রস্তাব একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে ছাড়, খরচ নিয়ন্ত্রণে বাড়ছে সুবিধা ওয়েজ বোর্ডসহ সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় তেলের দাম বাড়ল হাইকোর্টে বাড়ছে রিট নিষ্পত্তি: বিচারিক শৃঙ্খলায় কমবে মামলার চাপ কৃষকের চাহিদাকে অগ্রাধিকার : ৬৪ জেলায় শতভাগ সার বরাদ্দ বিএনপি সরকারের মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়নের সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে : প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন : বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ইসির প্রস্তুতি সভা আজ

রাজশাহীতে ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ, পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২১ Time View
ছবি : বাসস

ওমর ফারুক

রাজশাহী জেলায় চলতি মৌসুমে ব্যাপক পরিসরে আলুর চাষ হয়েছে।

জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ৩৪ হাজার ১০৯ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করেছেন কৃষকরা। বর্তমানে আলু খেতের পরিচর্যা, সেচ, আগাছা দমন ও রোগবালাই প্রতিরোধে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা থাকায় এবার ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় উফশী আলু ৩১ হাজার ৪৭৪ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এর মধ্যে মতিহারে ১০ হেক্টর, বোয়ালিয়ায় ৩৫ হেক্টর, পবা উপজেলায় ৩ হাজার ৪১০ হেক্টর, তানোরে ১২ হাজার ২৫৫ হেক্টর, মোহনপুরে ৪ হাজার ৪৯৫ হেক্টরে আলুর চাষ হয়েছে।

এছাড়া বাগমারা উপজেলায় ৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর, দুর্গাপুরে ১ হাজার ৫২০ হেক্টর,  পুঠিয়ায় ৭৭০ হেক্টর, গোদাগাড়ীতে ২ হাজার ৯২ হেক্টর, চারঘাটে ১৮০ হেক্টর, বাঘায় ২২২ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে ও ২ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে স্থানীয় আলু চাষ করা হয়েছে।

এবার ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এর মধ্যে রাজশাহীর পবা, বাগমারা, মোহনপুর, তানোর, গোদাগাড়ী ও দুর্গাপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আলু চাষ হয়েছে। সবচাইতে বেশি চাষ হয়েছে তানোর উপজেলায়। উন্নত জাতের আলু, সঠিক সময় রোপণ এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে খেতগুলোতে গাছের বৃদ্ধি ভালো দেখা যাচ্ছে।

পবা উপজেলার আলুচাষি সামাউন বলেন, এবার সময়মতো বীজ রোপণ করতে পেরেছি। আবহাওয়াও অনুকূলে আছে। এখন নিয়মিত সেচ ও সার দিচ্ছি। আলু গাছ ভালো অবস্থায় আছে। যদি কোনো বড় রোগ না লাগে আর বাজারে ন্যায্য দাম পাই, তাহলে লাভ ভালোই হবে।

বাগমারা উপজেলার কৃষক মতিউর বলেন, আলু চাষে খরচ আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। বীজ, সার আর শ্রমিকের মজুরি সবই বেশি। তারপরও ফলন ভালো হলে সেই খরচ উঠে আসবে। এখন প্রতিদিন খেতে গিয়ে পরিচর্যা করছি।

তানোর উপজেলার কৃষক শফিউর রহমান বলেন, গত বছর অনেক কৃষক আলু চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

তারপরও এবার ঝুঁকি নিয়ে চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত আলুর অবস্থা ভালো। সরকার যদি সংরক্ষণ আর বাজার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে, তাহলে আমরা উপকৃত হবো।

গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষক সাব্বির বলেন, শীতের শুরুতে কিছুটা ঠাণ্ডা থাকলেও পরে আবহাওয়া ঠিক থাকায় আলুর বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ পাচ্ছি, এতে উপকার হচ্ছে।

শরিফ নামের এক কৃষক বলেন, আলুর ফলন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্য মূল্য না পেলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাই সরকারের কাছে আলু সংরক্ষণ, হিমাগার ব্যবস্থাপনা এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। সব মিলিয়ে রাজশাহীতে এবার আলুর আবাদ ও ক্ষেতের অবস্থা সন্তোষজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে আলুর আবাদ লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি হয়েছে। কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত বীজ, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই দমনে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো রোগবালাইয়ের খবর পাওয়া যায়নি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো উৎপাদনের আশা করা যাচ্ছে। আরও কিছু জমিতে আলু চাষ হবে। সেগুলো হলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সুত্র; বাসস

Bangla Photocard Generatorv3.7
জনপ্রিয়

যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফলাফল

রাজশাহীতে ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ, পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা

Update Time : ০৮:২২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
ছবি : বাসস

ওমর ফারুক

রাজশাহী জেলায় চলতি মৌসুমে ব্যাপক পরিসরে আলুর চাষ হয়েছে।

জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ৩৪ হাজার ১০৯ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করেছেন কৃষকরা। বর্তমানে আলু খেতের পরিচর্যা, সেচ, আগাছা দমন ও রোগবালাই প্রতিরোধে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা থাকায় এবার ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় উফশী আলু ৩১ হাজার ৪৭৪ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এর মধ্যে মতিহারে ১০ হেক্টর, বোয়ালিয়ায় ৩৫ হেক্টর, পবা উপজেলায় ৩ হাজার ৪১০ হেক্টর, তানোরে ১২ হাজার ২৫৫ হেক্টর, মোহনপুরে ৪ হাজার ৪৯৫ হেক্টরে আলুর চাষ হয়েছে।

এছাড়া বাগমারা উপজেলায় ৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর, দুর্গাপুরে ১ হাজার ৫২০ হেক্টর,  পুঠিয়ায় ৭৭০ হেক্টর, গোদাগাড়ীতে ২ হাজার ৯২ হেক্টর, চারঘাটে ১৮০ হেক্টর, বাঘায় ২২২ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে ও ২ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে স্থানীয় আলু চাষ করা হয়েছে।

এবার ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এর মধ্যে রাজশাহীর পবা, বাগমারা, মোহনপুর, তানোর, গোদাগাড়ী ও দুর্গাপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আলু চাষ হয়েছে। সবচাইতে বেশি চাষ হয়েছে তানোর উপজেলায়। উন্নত জাতের আলু, সঠিক সময় রোপণ এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে খেতগুলোতে গাছের বৃদ্ধি ভালো দেখা যাচ্ছে।

পবা উপজেলার আলুচাষি সামাউন বলেন, এবার সময়মতো বীজ রোপণ করতে পেরেছি। আবহাওয়াও অনুকূলে আছে। এখন নিয়মিত সেচ ও সার দিচ্ছি। আলু গাছ ভালো অবস্থায় আছে। যদি কোনো বড় রোগ না লাগে আর বাজারে ন্যায্য দাম পাই, তাহলে লাভ ভালোই হবে।

বাগমারা উপজেলার কৃষক মতিউর বলেন, আলু চাষে খরচ আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। বীজ, সার আর শ্রমিকের মজুরি সবই বেশি। তারপরও ফলন ভালো হলে সেই খরচ উঠে আসবে। এখন প্রতিদিন খেতে গিয়ে পরিচর্যা করছি।

তানোর উপজেলার কৃষক শফিউর রহমান বলেন, গত বছর অনেক কৃষক আলু চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

তারপরও এবার ঝুঁকি নিয়ে চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত আলুর অবস্থা ভালো। সরকার যদি সংরক্ষণ আর বাজার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে, তাহলে আমরা উপকৃত হবো।

গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষক সাব্বির বলেন, শীতের শুরুতে কিছুটা ঠাণ্ডা থাকলেও পরে আবহাওয়া ঠিক থাকায় আলুর বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ পাচ্ছি, এতে উপকার হচ্ছে।

শরিফ নামের এক কৃষক বলেন, আলুর ফলন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্য মূল্য না পেলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাই সরকারের কাছে আলু সংরক্ষণ, হিমাগার ব্যবস্থাপনা এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। সব মিলিয়ে রাজশাহীতে এবার আলুর আবাদ ও ক্ষেতের অবস্থা সন্তোষজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে আলুর আবাদ লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি হয়েছে। কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত বীজ, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই দমনে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো রোগবালাইয়ের খবর পাওয়া যায়নি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো উৎপাদনের আশা করা যাচ্ছে। আরও কিছু জমিতে আলু চাষ হবে। সেগুলো হলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সুত্র; বাসস

Bangla Photocard Generatorv3.7