Dhaka ০১:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
News Title :
ওয়েজ বোর্ডসহ সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় তেলের দাম বাড়ল হাইকোর্টে বাড়ছে রিট নিষ্পত্তি: বিচারিক শৃঙ্খলায় কমবে মামলার চাপ কৃষকের চাহিদাকে অগ্রাধিকার : ৬৪ জেলায় শতভাগ সার বরাদ্দ বিএনপি সরকারের মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়নের সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে : প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন : বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ইসির প্রস্তুতি সভা আজ সাংবাদিকদের কারণেই দেশে গণতন্ত্র টিকে আছে : তথ্যমন্ত্রী শত বাধা ও কঠিন পথ পেরিয়ে বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিএনপি ৪৯ বছরে পা রাখছে বিএনপি, শহীদ জিয়ার ১৯ দফা এখনো দলের পথনির্দেশক গুমের আগে কোথায় কীভাবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন, রোমহর্ষক বর্ণনা

বর্ষার পানি উপেক্ষা করে পণ্য পাহারা দিচ্ছেন বন্দরের আনসার সদস্যরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫
  • ৬ Time View

মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি : পণ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে স্থলপথে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে সহজতর পথ হওয়ায় বাংলাদেশের বেনাপোল স্থলবন্দর ব্যাপক ভূমিকা পালন করে চলেছে।

দেশের ৮০ শতাংশ বাণিজ্য সম্প্রসারণ এ পথ দিয়ে হয়ে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট দেশে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ভারত সরকার বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে কয়েকটি পণ্যের উপর সে দেশের সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এতে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও থেমে নেই অন্যান্য আমদানি-রপ্তানি পণ্য। প্রায় প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ পণ্যবাহী ট্রাক ভারতের পেট্রাপোল হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এ সকল পণ্য এসে জমা হয় দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে।

বেনাপোল বন্দরে প্রতি বছর ২২-২৪ লাখ মেট্রিক টন পণ্য ভারত থেকে আমদানি হয়। এসব রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্দরে রয়েছে ৩৩টি শেড, ৩টি ওপেন ইয়ার্ড এবং একটি ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড। ছোট পণ্য রাখা হয় শেডে, বড়গুলো ওপেন ইয়ার্ডে। কিন্তু এসব অবকাঠামো অধিকাংশই পরিকল্পনা ছাড়াই নির্মিত হওয়ায় বৃষ্টির সময় পানি জমে পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হয়, যান ও মানুষ চলাচলে বিঘœ ঘটে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৪ জুলাই হতে পর পর কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাতে বেনাপোল স্থলবন্দরের শেডগুলোতে (গুদাম) ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।  বৃষ্টির মাত্রা বাড়লে শেডের ভেতরে পানি ঢুকে কোটি কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্যের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দেয়।

বন্দরে গিয়ে দেখা গেছে, বেনাপোল স্থলবন্দরের ৯, ১২, ১৩, ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর শেডের চারপাশে পানিতে থৈ থৈ করছে। খোলা আকাশের নিচে রাখা মালামাল পানিতে ভেসে যাচ্ছে।  বন্দরের নিচু জায়গাগুলোতে পানি জমে থাকায় দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হয়ে ওঠে না।

অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকার কারণে স্থলবন্দর বেনাপোলে বারবার জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পানি জমে, কোটি কোটি টাকার পণ্য ভাসতে থাকে খোলা ইয়ার্ডে থাকা পণ্য। ফলে, পণ্য পাহারার পাশাপাশি তা রক্ষনাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার দায়িত্ব এসে পড়ে বন্দরের নিরাপত্তা সংস্থা আনসার বাহিনীর উপর।

দেখা গেছে, নিরাপত্তার দায়িত্ব ছাড়াও  খোলা ইয়ার্ডে পড়ে থাকা কোটি কোটি টাকার পণ্য চুরি থেকে রক্ষা করতে ঝড় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে পাহারা দিচ্ছে আনসার সদস্যরা। এ সব অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেককেই বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে দেখা যায়।

বেনাপোল স্থলবন্দরে নিরাপত্তার কাজে প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) একজন, এপিসি-৬ জন এবং ১৫৮ জন আনসার সদস্য রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পেশাগত দায়িত্বের মহানুভবতার যে দৃষ্টান্ত তারা দেখিয়ে থাকেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদ্বার। অথচ বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কোন কাজের স্বীকৃতি প্রদান করা হয় না, সীমিত বেতনেই চলতে হয় পরিবার-পরিজনকে নিয়ে।

বন্দরে আনসারদের দায়িত্ব এবং গুরুত্ব সম্পর্কে বন্দর ব্যবহারকারী ‘নিতা কোম্পানী লিমিটেড’ এর অফিস সহকারী মো. আকরাম হোসেন বলেন, ‘বর্ষার পানিতে বর্তমানে বেনাপোল স্থলবন্দর প্রায় তলিয়ে যাওয়ার মত অবস্থা। এ অবস্থায় খোলামাঠে পড়ে থাকা হাজার হাজার কোটি টাকার পণ্য পানিতে ভিজে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমতাবস্থায় পণ্য রক্ষনাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তায় আনসার বাহিনীর জুড়ি নেই। স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে তারা ২৪ ঘন্টা নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকে। এতে করে আমাদের আমদানি-রপ্তানি পণ্যের রক্ষনাবেক্ষণ শতভাগ নিরাপদ থাকে’।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনে এবং পণ্য নিরাপত্তায় আনসার বাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম। বন্দরে যে কয়টি চেক পয়েন্ট আছে, প্রতিটি চেকপয়েন্টে আনসারদের জন্য একটি করে ছাউনির প্রয়োজন আছে, বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ করে তিনি বলেন, আনসারদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রশাসনের সহায়তা প্রদান আবশ্যকীয়’।

বেনাপোল বন্দরের আনসারের প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) হেলাল উজ্জামান বলেন, জলাবদ্ধতায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের কয়েকজন আনসার সদস্য স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। রাতদিন ২৪ ঘন্টা পানির মধ্যে থেকে আমাদের ডিউটি পালন করতে হয়। আমাদের রুটি-রুজি এখান থেকে আসে, শত বিপদের মধ্যে আমরা নিষ্ঠার সাথে আমাদের দায়িত্ব পালণ করে যাচ্ছি’। প্রশাসন থেকে আমাদের কেউ খোজ খবর নেন না। এটাই আমাদের দু:খ।

Bangla Photocard Generatorv3.7

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ওয়েজ বোর্ডসহ সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

বর্ষার পানি উপেক্ষা করে পণ্য পাহারা দিচ্ছেন বন্দরের আনসার সদস্যরা

Update Time : ১১:২৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫

মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি : পণ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে স্থলপথে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে সহজতর পথ হওয়ায় বাংলাদেশের বেনাপোল স্থলবন্দর ব্যাপক ভূমিকা পালন করে চলেছে।

দেশের ৮০ শতাংশ বাণিজ্য সম্প্রসারণ এ পথ দিয়ে হয়ে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট দেশে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ভারত সরকার বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে কয়েকটি পণ্যের উপর সে দেশের সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এতে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও থেমে নেই অন্যান্য আমদানি-রপ্তানি পণ্য। প্রায় প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ পণ্যবাহী ট্রাক ভারতের পেট্রাপোল হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এ সকল পণ্য এসে জমা হয় দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে।

বেনাপোল বন্দরে প্রতি বছর ২২-২৪ লাখ মেট্রিক টন পণ্য ভারত থেকে আমদানি হয়। এসব রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্দরে রয়েছে ৩৩টি শেড, ৩টি ওপেন ইয়ার্ড এবং একটি ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড। ছোট পণ্য রাখা হয় শেডে, বড়গুলো ওপেন ইয়ার্ডে। কিন্তু এসব অবকাঠামো অধিকাংশই পরিকল্পনা ছাড়াই নির্মিত হওয়ায় বৃষ্টির সময় পানি জমে পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হয়, যান ও মানুষ চলাচলে বিঘœ ঘটে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৪ জুলাই হতে পর পর কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাতে বেনাপোল স্থলবন্দরের শেডগুলোতে (গুদাম) ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।  বৃষ্টির মাত্রা বাড়লে শেডের ভেতরে পানি ঢুকে কোটি কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্যের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দেয়।

বন্দরে গিয়ে দেখা গেছে, বেনাপোল স্থলবন্দরের ৯, ১২, ১৩, ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর শেডের চারপাশে পানিতে থৈ থৈ করছে। খোলা আকাশের নিচে রাখা মালামাল পানিতে ভেসে যাচ্ছে।  বন্দরের নিচু জায়গাগুলোতে পানি জমে থাকায় দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হয়ে ওঠে না।

অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকার কারণে স্থলবন্দর বেনাপোলে বারবার জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পানি জমে, কোটি কোটি টাকার পণ্য ভাসতে থাকে খোলা ইয়ার্ডে থাকা পণ্য। ফলে, পণ্য পাহারার পাশাপাশি তা রক্ষনাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার দায়িত্ব এসে পড়ে বন্দরের নিরাপত্তা সংস্থা আনসার বাহিনীর উপর।

দেখা গেছে, নিরাপত্তার দায়িত্ব ছাড়াও  খোলা ইয়ার্ডে পড়ে থাকা কোটি কোটি টাকার পণ্য চুরি থেকে রক্ষা করতে ঝড় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে পাহারা দিচ্ছে আনসার সদস্যরা। এ সব অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেককেই বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে দেখা যায়।

বেনাপোল স্থলবন্দরে নিরাপত্তার কাজে প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) একজন, এপিসি-৬ জন এবং ১৫৮ জন আনসার সদস্য রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পেশাগত দায়িত্বের মহানুভবতার যে দৃষ্টান্ত তারা দেখিয়ে থাকেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদ্বার। অথচ বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কোন কাজের স্বীকৃতি প্রদান করা হয় না, সীমিত বেতনেই চলতে হয় পরিবার-পরিজনকে নিয়ে।

বন্দরে আনসারদের দায়িত্ব এবং গুরুত্ব সম্পর্কে বন্দর ব্যবহারকারী ‘নিতা কোম্পানী লিমিটেড’ এর অফিস সহকারী মো. আকরাম হোসেন বলেন, ‘বর্ষার পানিতে বর্তমানে বেনাপোল স্থলবন্দর প্রায় তলিয়ে যাওয়ার মত অবস্থা। এ অবস্থায় খোলামাঠে পড়ে থাকা হাজার হাজার কোটি টাকার পণ্য পানিতে ভিজে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমতাবস্থায় পণ্য রক্ষনাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তায় আনসার বাহিনীর জুড়ি নেই। স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে তারা ২৪ ঘন্টা নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকে। এতে করে আমাদের আমদানি-রপ্তানি পণ্যের রক্ষনাবেক্ষণ শতভাগ নিরাপদ থাকে’।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনে এবং পণ্য নিরাপত্তায় আনসার বাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম। বন্দরে যে কয়টি চেক পয়েন্ট আছে, প্রতিটি চেকপয়েন্টে আনসারদের জন্য একটি করে ছাউনির প্রয়োজন আছে, বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ করে তিনি বলেন, আনসারদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রশাসনের সহায়তা প্রদান আবশ্যকীয়’।

বেনাপোল বন্দরের আনসারের প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) হেলাল উজ্জামান বলেন, জলাবদ্ধতায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের কয়েকজন আনসার সদস্য স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। রাতদিন ২৪ ঘন্টা পানির মধ্যে থেকে আমাদের ডিউটি পালন করতে হয়। আমাদের রুটি-রুজি এখান থেকে আসে, শত বিপদের মধ্যে আমরা নিষ্ঠার সাথে আমাদের দায়িত্ব পালণ করে যাচ্ছি’। প্রশাসন থেকে আমাদের কেউ খোজ খবর নেন না। এটাই আমাদের দু:খ।

Bangla Photocard Generatorv3.7