Dhaka ০৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
News Title :
ওয়েজ বোর্ডসহ সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় তেলের দাম বাড়ল হাইকোর্টে বাড়ছে রিট নিষ্পত্তি: বিচারিক শৃঙ্খলায় কমবে মামলার চাপ কৃষকের চাহিদাকে অগ্রাধিকার : ৬৪ জেলায় শতভাগ সার বরাদ্দ বিএনপি সরকারের মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়নের সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে : প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন : বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ইসির প্রস্তুতি সভা আজ সাংবাদিকদের কারণেই দেশে গণতন্ত্র টিকে আছে : তথ্যমন্ত্রী শত বাধা ও কঠিন পথ পেরিয়ে বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিএনপি ৪৯ বছরে পা রাখছে বিএনপি, শহীদ জিয়ার ১৯ দফা এখনো দলের পথনির্দেশক গুমের আগে কোথায় কীভাবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন, রোমহর্ষক বর্ণনা

‘ডিসি স্যার নার্সিং-এ ভর্তির স্বপ্ন পূরণ করেছেন’

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪
  • ৯ Time View

স্টাফ রিপোর্টার : এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী ছাত্রী সোনিয়া- নগরীর শিরোইল কাঁচা বাজারের অসহায় চা বিক্রেতা রেনু বেগমের ছোট মেয়ে। সে এবছর চুয়াডাঙ্গা সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে নার্সিং বিভাগে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে নার্সিং বিভাগে ভর্তির স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায়, সোনিয়া বড়ই দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠার ভেতর নিজেকে সমর্পিত করেছিল। এমতাবস্থায় বিষয়টি জানার পরপরই সোমবার (১৩ মে) বেলা ১২টায় নিজ কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ সোনিয়া ও তার চা বিক্রেতা মা রেনু বেগমকে ডেকে পাঠান।

এসময় জেলা প্রশাসক অসহায় মা-মেয়ের নিদারুণ জীবন সংগ্রামের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং ভর্তির জন্য ১৫ হাজার টাকার একটি চেক তাদের হাতে তুলে দেন। সেই সঙ্গে দরিদ্র ও অসহায় জীবন সংগ্রামী রেনু বেগমকে আগামী এক মাসের খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কল্যাণ চৌধুরী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবেগ আপ্লুত হয়ে সোনিয়া জানান, নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজরা পুকুর হাউজিং এলাকায় একটি ছোট্ট ঘর ভাড়া নিয়ে চা বিক্রেতা মা ও বড়ো বোনের সাথে নিদারুণ কষ্টের সঙ্গে লড়াই করে, জীবন যাপন করছি। আট বছর আগে বাবাকে হারিয়েছি। এরপর থেকে চা বিক্রেতা মা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়েও সংসারের হাল শক্তভাবে ধরেছেন।

প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শিরোইল কাঁচা বাজারে চা বিক্রি করে চলে আমার মায়ের জীবন জীবিকার সংগ্রাম। শত কষ্টের মাঝেও বড়ো বোন ও আমার লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছেন। আমার বড়ো বোন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী।

সোনিয়া আরো জানান, সে ২০২২ সালে নওদাপাড়া আম চত্বরে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। এবছর আমি চুয়াডাঙ্গা সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে নার্সিং বিভাগে পড়ালেখা করার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে সেখানে ভর্তি হতে পারছিলাম না। এ অবস্থা জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ স্যার আমার বিপদের কান্ডারী হিসেবে শিক্ষা জীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন।

তিনি আমার নিদারুণ কষ্টের কথা শুনেন এবং তৎক্ষণাৎ নার্সিং বিভাগে ভর্তির স্বপ্ন পূরণ করার জন্য ১৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি আমার চা বিক্রেতা মায়ের জীবন সংগ্রামের কথা শোনার পর এক মাসের খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেন। আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের প্রতি সারা জীবন চির কৃতজ্ঞ থাকব। আমি তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, সোনিয়া একজন মেধাবী ছাত্রী, সে ২০২২ সালে শহীদ বুদ্ধিজীবী সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। সে নিদারুণ দারিদ্র্যের মধ্যে থেকেই এবছর চুয়াডাঙ্গা সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে এখনো ভর্তি হতে পারেনি।

বিষয়টি আমার নজরে আসা মাত্র তৎক্ষণাৎ তাকে ডেকে পাঠাই। তাকে নার্সিং এ ভর্তির জন্য ১৫ হাজার টাকার চেক এবং এক মাসের খাদ্য সামগ্রী প্রদান করি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

Bangla Photocard Generatorv3.7

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ওয়েজ বোর্ডসহ সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

‘ডিসি স্যার নার্সিং-এ ভর্তির স্বপ্ন পূরণ করেছেন’

Update Time : ১১:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার : এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী ছাত্রী সোনিয়া- নগরীর শিরোইল কাঁচা বাজারের অসহায় চা বিক্রেতা রেনু বেগমের ছোট মেয়ে। সে এবছর চুয়াডাঙ্গা সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে নার্সিং বিভাগে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে নার্সিং বিভাগে ভর্তির স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায়, সোনিয়া বড়ই দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠার ভেতর নিজেকে সমর্পিত করেছিল। এমতাবস্থায় বিষয়টি জানার পরপরই সোমবার (১৩ মে) বেলা ১২টায় নিজ কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ সোনিয়া ও তার চা বিক্রেতা মা রেনু বেগমকে ডেকে পাঠান।

এসময় জেলা প্রশাসক অসহায় মা-মেয়ের নিদারুণ জীবন সংগ্রামের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং ভর্তির জন্য ১৫ হাজার টাকার একটি চেক তাদের হাতে তুলে দেন। সেই সঙ্গে দরিদ্র ও অসহায় জীবন সংগ্রামী রেনু বেগমকে আগামী এক মাসের খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কল্যাণ চৌধুরী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবেগ আপ্লুত হয়ে সোনিয়া জানান, নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজরা পুকুর হাউজিং এলাকায় একটি ছোট্ট ঘর ভাড়া নিয়ে চা বিক্রেতা মা ও বড়ো বোনের সাথে নিদারুণ কষ্টের সঙ্গে লড়াই করে, জীবন যাপন করছি। আট বছর আগে বাবাকে হারিয়েছি। এরপর থেকে চা বিক্রেতা মা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়েও সংসারের হাল শক্তভাবে ধরেছেন।

প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শিরোইল কাঁচা বাজারে চা বিক্রি করে চলে আমার মায়ের জীবন জীবিকার সংগ্রাম। শত কষ্টের মাঝেও বড়ো বোন ও আমার লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছেন। আমার বড়ো বোন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী।

সোনিয়া আরো জানান, সে ২০২২ সালে নওদাপাড়া আম চত্বরে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। এবছর আমি চুয়াডাঙ্গা সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে নার্সিং বিভাগে পড়ালেখা করার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে সেখানে ভর্তি হতে পারছিলাম না। এ অবস্থা জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ স্যার আমার বিপদের কান্ডারী হিসেবে শিক্ষা জীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন।

তিনি আমার নিদারুণ কষ্টের কথা শুনেন এবং তৎক্ষণাৎ নার্সিং বিভাগে ভর্তির স্বপ্ন পূরণ করার জন্য ১৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি আমার চা বিক্রেতা মায়ের জীবন সংগ্রামের কথা শোনার পর এক মাসের খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেন। আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের প্রতি সারা জীবন চির কৃতজ্ঞ থাকব। আমি তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, সোনিয়া একজন মেধাবী ছাত্রী, সে ২০২২ সালে শহীদ বুদ্ধিজীবী সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। সে নিদারুণ দারিদ্র্যের মধ্যে থেকেই এবছর চুয়াডাঙ্গা সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে এখনো ভর্তি হতে পারেনি।

বিষয়টি আমার নজরে আসা মাত্র তৎক্ষণাৎ তাকে ডেকে পাঠাই। তাকে নার্সিং এ ভর্তির জন্য ১৫ হাজার টাকার চেক এবং এক মাসের খাদ্য সামগ্রী প্রদান করি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

Bangla Photocard Generatorv3.7