দিনাজপুরে উট পাখির সফল প্রজনন


admin প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৬, ২০২৬, ১২:৩৫ PM /
দিনাজপুরে উট পাখির সফল প্রজনন
ছবি : বাসস
অনলাইন ডেস্ক : দিনাজপুর, ২৬ আগস্ট, ২০২৬ : জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নে মরনাই গ্রামে উট পাখিসহ বন্য প্রাণী সমৃদ্ধ একটি মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক স্থাপন করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার জেলার পার্বতীপুর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পবিত্র কুমার এই তথ্য বাসস’কে নিশ্চিত করেন।  তিনি বলেন, সম্প্রতি ওই মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিমসহ পরিদর্শন করেছি। পার্কটির প্রাপ্ত সার্বিক বিষয় জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোকে অবহিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কটির উদ্যোক্তা জেলার পার্বতীপুর উপজেলার মরনাই গ্রামের বাসিন্দা প্রকৌশলী মো. রইস উদ্দিন মিয়া বাবুল। তিনি শখের বসে তার নিজ উদ্যোগে মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কটি স্থাপন করেছেন। প্রতিদিন এই পার্কটি স্থানীয় ও বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা পরিদর্শনে আসেন এবং উট পাখিসহ অন্যান্য বন্য প্রাণী দেখে তৃপ্তি নিয়ে ফিরে যান।

পার্কটি পার্বতীপুর উপজেলা হাবড়া ইউনিয়নের মরনাই গ্রামের পাশে তাহেরপাড়া বাজার সংলগ্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন পার্কটি ঘুরে দেখা যায়, বিশাল দেহ, লম্বা ঘাড় আর শক্তিশালী পা-উড়তে না পারলেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাখি, উট পাখি এখানকার বিশেষ আকর্ষণ। দেশের প্রত্যন্ত এলাকা জেলার পার্বতীপুর উপজেলার পল্লীতে এই পাখির সফল প্রজননে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কটি।

পার্কটিতে ইনকিউবেটরের মাধ্যমে ডিম থেকে ফুটেছে ৭টি উট পাখির বাচ্চা। এরমধ্যে একটি মারা গেছে। বর্তমানে ৬টি বাচ্চা সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে। গত ২৪ মে বাচ্চা গুলো ডিম থেকে ফুটে বের হয়েছে।

পার্কের স্বত্বাধিকারী ও উদ্যোক্তা প্রকৌশলী মো. রইচ উদ্দীন মিয়া বাবুল জানান, কয়েক মাস আগে ঢাকার একটি স্থান থেকে উট পাখি দু’টি এই পার্কে নিয়ে আসা হয়। উট পাখি নিয়ে আসার এক সপ্তাহের মধ্যে পাখি দু’টি ২৪টি ডিম দেয়। ডিমগুলো দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-হাবিপ্রবি’র জেনেটিকস অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগের শিক্ষক ও গবেষকদের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে ইনকিউবেটরে রাখা হয়।

এরমধ্যে ডিম থেকে ৫টি বাচ্চা হাবিপ্রবি’র গবেষণাগারের ইনকিউবেটরে এবং দু’টি পার্কের নিজস্ব ইনকিউবেটরে ডিম থেকে সফলভাবে বাচ্চা ফুটেছে।

বাচ্চাগুলো নিরাপদে বেড়ে উঠার স্বার্থে বিষয়টি এতোদিন অনেকটা গোপন রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি চলতি আগষ্ট মাসের মধ্যে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম ও জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাগণ পার্কটি পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে উট পাখির বাচ্চা জন্মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকেই বাচ্চাগুলো দেখতে প্রতিদিন পার্কে দর্শনার্থীদের ভীড় বাড়ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের অভিমত, একটি উট পাখি বছরে ৬০ থেকে ৮০টি পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। প্রতিটি ডিমের ওজন প্রায় দেড় কেজি হয়ে থাকে। ঘাস, শাক-সবজি ও পোল্ট্রি ফিডসহ বিভিন্ন সহজলভ্য খাবার উট পাখির খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

দিনাজপুর জেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আশিকা আকবর তৃষার অভিমত, সৌখিনতার পাশাপাশি উট পাখি পালনে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়ানো গেলে বাণিজ্যিক উৎপাদন ও রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

দিনাজপুর হাবিপ্রবি’র জেনেটিকস অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, দেশে উট পাখির বংশ বিস্তারের সম্ভাবনা নিয়ে গত ২০২০ সাল থেকে গবেষণা করছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিকস অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগ।

তিনি বলেন, গত ২০২১ এবং ২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে একাধিকবার ইনকিউবেটরে ডিম বসানো হয়েছিল। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া যায়নি। গত ২০২৩ সালে একটি ডিম থেকে বাচ্চা ফুটেছিল। কিন্তু কিছু দিন পর বাচ্চাটি মারা যায়।

তিনি বলেন, সেই তুলনায় দিনাজপুরে একটি পার্ককে ৬টি উট পাখির বাচ্চার সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা সংশ্লিষ্টদের জন্য বড় সাফল্য হিসাবে দেখা হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা, গবেষণা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে, এই সাফল্য দেশের অন্য এলাকাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

সুত্র: বাসস

Bangla Photocard Generatorv3.7