ফরিদপুরে আলু বোখারা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা


admin প্রকাশের সময় : জুন ২৫, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ /
ফরিদপুরে আলু বোখারা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

জেলায় আলু বোখারা ফল চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ছবি : বাসস

/ আনিচুর রহমান /

অনলাইন ডেস্ক : ফরিদপুর, ২৫ জুন, ২০২৬ : জেলায় আলু বোখারা ফল চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ ফলটি মধ্যপ্রাচ্যের ইরান ও ইরাকে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়। এছাড়া ভারতেও চাষ হয়। এ ফলটি আমাদের দেশে আমদানি করতে হয় বিদেশ থেকে। তবে পরীক্ষামূলক চাষে এরই মধ্যে সফলতা মিলেছে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী পৌরসভার লোকনাথ গ্রামে।

স্থানীয় চাষীরা মনে করেন, কৃষি বিভাগের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া গেলে উচ্চ মূল্যের এ ফল আবাদের মাধ্যমে লাভবান হতে পারবে এ জেলার কৃষকরা। আর এতে কমবে আমদানি নির্ভরতাও।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আলু বোখারা চাষাবাদ ও সংরক্ষণে স্থানীয় কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

২০২১ সালে ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের লোকনাথ গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান (৬১) ২৫ টি আলু বোখারা গাছ রোপণ করেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, এসডিসির মাধ্যমে পরীক্ষামূলক আবাদের অংশ হিসেবে রোপণ করা গাছগুলোর গুরুত্ব প্রথম দিকে বুঝতে না পেরে কিছুদিন পরেই ১৮টি গাছ কেটে ফেলেন তিনি। এরপর থেকে যায় সাতটি গাছ।

২০২৩ সালে আলু বোখারা গাছগুলোতে প্রথম ফলন আসে। প্রথম দুই বছরে ফলন কিছুটা কম হলেও গত দুই বছর ধরে পর্যাপ্ত ফলন আসে গাছগুলোতে। এতেই এ ফলটির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেন কৃষক হাবিবুর রহমান।

আলু বোখারা চাষি হাবিবুর রহমান বলেন, গাছগুলো ২০২১ সালে এসডিসি প্রকল্প থেকে নিয়ে আমি রোপণ করি। প্রথম দিকে গুরুত্ব বুঝতে না পারায় ১৮ টি গাছ কেটে ফেলি। এখন প্রতিটি গাছেই প্রচুর ফলন হয়।

প্রতিটি গাছ থেকে এবছর ৪০ থেকে ৫০ কেজি কাঁচা ফল সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা প্রক্রিয়াজাত করার পরে ২০ থেকে ২৫ কেজিতে দাড়ায়, যার বাজার মূল্য ২০ হাজার টাকার ওপরে। তিনি জানান, শুধু ফল বিক্রি করে নয়, কলম থেকে চারা উৎপাদন করেও উপার্জনের ভালো সুযোগ রয়েছে।

হাবিবুর রহমানের ছেলে জহির আব্বাস ইসলাম জানান, আব্বুর চাষ করা গাছগুলো আব্বুর পাশাপাশি আমিও দেখাশোনা করি। শুরুর দিকে আমরা বুঝতাম না আমরা কি করবো বা কিভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করব। তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করে চলছি। এবং বর্তমানে আমরা এ ফল চাষে সফল হয়েছি। আমাদের সফলতা দেখে আশপাশের অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন এ ফল চাষে। আমরা তাদেরকে পরামর্শ দিচ্ছি। এবং প্রতিদিন বিকাল হলেই অনেকেই দেখতে আসে এটা আমাদের কাছে খুবই আনন্দের।

প্রতিবেশী মো. চুন্নু মোল্লা বলেন, এ ফলটা অনেক মূল্যবান ফল। আমাদের দেশের মাটিতে যে এই ফলটা হবে এটা কল্পনার বাহিরে ছিল। এর ফলন দেখে আমরা উৎসাহ বোধ করছি। এই গাছগুলোতে ভালো ফলন হচ্ছে। তবে এ ফলের রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে পুরোপুরি অবগত নয় চাষিরা। তাই সরকারের কাছে দাবি আলু বোখারা ফল চাষ, উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণে ভালোভাবে তদারকি করার। আমাদের দেশে এ ফলের চাষ ও উৎপাদন বড়াতে পারলে এ ফলগুলো আর বাহির থেকে আমদানি করতে হবে না। দেশের ফলনেই চাহিদা মিটানো সম্ভব হবে বলে আশাবাদী এই প্রতিবেশী।

প্রতিবেশী ফয়সাল বলেন, হাবিবুর রহমানের দেখাদেখি আমিসহ আশে পাশের চষীরাও আলু বোখারার বাগান তৈরিতে আগ্রহী। তারা মনে করেন, যেহেতু আবাদ করে সফলভাবে ফল পাওয়া যাচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে এতদাঞ্চলের মাটি আলু বোখারা চাষের জন্যে উপযোগী। তাই ফসলের আবাদ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।

বোয়ালমারী পৌরসভার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অভিজিত বিশ্বাস বাসস’কে বলেন, এগুলো বিদেশি ফল। আমাদের দেশে এগুলো হয় না, বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বোয়ালমারির মাটিতে এর ভালো ফলন হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে এ এলাকার মাটি ও পরিবেশ আলু বোখারা ফলের জন্য উপযুক্ত। এটি সাধারণত মসলা জাতীয় ফল। বিরিয়নি,পোলাউ, রোস্ট বা আচারসহ বিভিন্ন কাজে এ ফল ব্যবহার হয়ে থাকে।

ছবি : বাসস

ছবি : বাসস

তিনি জানান, এ ফল পাকা অবস্থায় গাছ থেকে পেরে ছায়াযুক্ত স্থানে রেখে পরবর্তীতে গরম পানি দিয়ে ওপরের অংশ ফেলে দিলে কমলা রঙ্গের একটি আবরণ পাওয়া যাবে, তখন ফলটি বড়ই আকৃতি ধারণ করবে। যেটি পরবর্তীতে দীর্ঘদিন রেখে রান্নার জন্য ব্যবহারের উপযোগী হবে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, আলু বোখারা ফল গাছগুলো রোপণের পর থেকেই আমরা হাবিবুর রহমানকে সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছি। যেহেতু এটি বিদেশি ফল তাই এর প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞাত না হওয়ায় চাষীরা আগ্রহী হচ্ছে না। তবে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে চাষীদের ধারণা দিয়ে আলু বোখারা চাষের উদ্যোগ নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এদেশের মাটি ও পরিবেশ এ ফলের জন্য উপযোগী, তাই দেশে এই ফলের আবাদ বাড়ানো গেলে আমাদেরকে বিদেশ থেকে আর আমদানি করতে হবে না।

সুত্র: বাসস

Bangla Photocard Generatorv3.7