Dhaka ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফলাফল পুলিশের জন্যে ৫,৮৩০টি যানবাহন ক্রয়ে ৬,৬০৮ কোটি টাকার প্রস্তাব একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে ছাড়, খরচ নিয়ন্ত্রণে বাড়ছে সুবিধা ওয়েজ বোর্ডসহ সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় তেলের দাম বাড়ল হাইকোর্টে বাড়ছে রিট নিষ্পত্তি: বিচারিক শৃঙ্খলায় কমবে মামলার চাপ কৃষকের চাহিদাকে অগ্রাধিকার : ৬৪ জেলায় শতভাগ সার বরাদ্দ বিএনপি সরকারের মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়নের সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে : প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন : বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ইসির প্রস্তুতি সভা আজ

আমতলীতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে বন্ধ সেচ—চরম বিপাকে কৃষক

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৮ Time View

ডিজেল-পেট্রোলের অভাব, বিদ্যুতের ঘাটতি ও বাড়তি দামে জ্বালানি—ফসল হুমকির মুখে

 

মাইনুল ইসলাম রাজু, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি;  বরগুনার আমতলীতে ডিজেল, পেট্রোলের সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে জমিতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা। এতে করে চলতি বোরো মৌসুমে ফসল উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। সময়মতো পানি না পাওয়ায় অনেক জমির ধান শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, এলাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে যেসব কৃষক বিদ্যুৎচালিত মোটরের মাধ্যমে সেচ দিতেন, তারাও নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় চরম সমস্যায় পড়েছেন। ফলে সেচ কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

এছাড়া আগে স্থানীয় বিভিন্ন দোকান থেকেও সহজেই ডিজেল ও পেট্রোল পাওয়া যেত, যা কৃষকদের জন্য কিছুটা সহায়ক ছিল। এতে অনেক সময় পাম্পে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হতো না। তবে বর্তমানে সেই দোকানগুলোতেও জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। আর কোথাও পাওয়া গেলেও তা চড়া দামে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।

স্থানীয় এক কৃষক বলেন, “আগে পাশের দোকান থেকেই ডিজেল কিনে সেচ দিতে পারতাম। এখন সেখানে কিছুই পাওয়া যায় না। আবার পাম্পে গেলেও তেল মেলে না, আর পেলেও দাম বেশি।”

আরেক কৃষক জানান, “এই সময়ে জমিতে নিয়মিত পানি না দিলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু বিদ্যুৎও নেই, তেলও নেই—আমরা এখন দিশেহারা।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বোরো মৌসুমে সময়মতো সেচ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট একসঙ্গে দেখা দেওয়ায় উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয়দের দাবি, কৃষি নির্ভর এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে খাদ্য উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তাই জরুরি ভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পর্যাপ্ত ডিজেল-পেট্রোল নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

Bangla Photocard Generatorv3.7
জনপ্রিয়

যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফলাফল

আমতলীতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে বন্ধ সেচ—চরম বিপাকে কৃষক

Update Time : ১২:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ডিজেল-পেট্রোলের অভাব, বিদ্যুতের ঘাটতি ও বাড়তি দামে জ্বালানি—ফসল হুমকির মুখে

 

মাইনুল ইসলাম রাজু, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি;  বরগুনার আমতলীতে ডিজেল, পেট্রোলের সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে জমিতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা। এতে করে চলতি বোরো মৌসুমে ফসল উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। সময়মতো পানি না পাওয়ায় অনেক জমির ধান শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, এলাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে যেসব কৃষক বিদ্যুৎচালিত মোটরের মাধ্যমে সেচ দিতেন, তারাও নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় চরম সমস্যায় পড়েছেন। ফলে সেচ কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

এছাড়া আগে স্থানীয় বিভিন্ন দোকান থেকেও সহজেই ডিজেল ও পেট্রোল পাওয়া যেত, যা কৃষকদের জন্য কিছুটা সহায়ক ছিল। এতে অনেক সময় পাম্পে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হতো না। তবে বর্তমানে সেই দোকানগুলোতেও জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। আর কোথাও পাওয়া গেলেও তা চড়া দামে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।

স্থানীয় এক কৃষক বলেন, “আগে পাশের দোকান থেকেই ডিজেল কিনে সেচ দিতে পারতাম। এখন সেখানে কিছুই পাওয়া যায় না। আবার পাম্পে গেলেও তেল মেলে না, আর পেলেও দাম বেশি।”

আরেক কৃষক জানান, “এই সময়ে জমিতে নিয়মিত পানি না দিলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু বিদ্যুৎও নেই, তেলও নেই—আমরা এখন দিশেহারা।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বোরো মৌসুমে সময়মতো সেচ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট একসঙ্গে দেখা দেওয়ায় উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয়দের দাবি, কৃষি নির্ভর এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে খাদ্য উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তাই জরুরি ভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পর্যাপ্ত ডিজেল-পেট্রোল নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

Bangla Photocard Generatorv3.7