আমতলীতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে বন্ধ সেচ—চরম বিপাকে কৃষক


admin প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ /
আমতলীতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে বন্ধ সেচ—চরম বিপাকে কৃষক

ডিজেল-পেট্রোলের অভাব, বিদ্যুতের ঘাটতি ও বাড়তি দামে জ্বালানি—ফসল হুমকির মুখে

 

মাইনুল ইসলাম রাজু, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি;  বরগুনার আমতলীতে ডিজেল, পেট্রোলের সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে জমিতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা। এতে করে চলতি বোরো মৌসুমে ফসল উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। সময়মতো পানি না পাওয়ায় অনেক জমির ধান শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, এলাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে যেসব কৃষক বিদ্যুৎচালিত মোটরের মাধ্যমে সেচ দিতেন, তারাও নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় চরম সমস্যায় পড়েছেন। ফলে সেচ কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

এছাড়া আগে স্থানীয় বিভিন্ন দোকান থেকেও সহজেই ডিজেল ও পেট্রোল পাওয়া যেত, যা কৃষকদের জন্য কিছুটা সহায়ক ছিল। এতে অনেক সময় পাম্পে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হতো না। তবে বর্তমানে সেই দোকানগুলোতেও জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। আর কোথাও পাওয়া গেলেও তা চড়া দামে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।

স্থানীয় এক কৃষক বলেন, “আগে পাশের দোকান থেকেই ডিজেল কিনে সেচ দিতে পারতাম। এখন সেখানে কিছুই পাওয়া যায় না। আবার পাম্পে গেলেও তেল মেলে না, আর পেলেও দাম বেশি।”

আরেক কৃষক জানান, “এই সময়ে জমিতে নিয়মিত পানি না দিলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু বিদ্যুৎও নেই, তেলও নেই—আমরা এখন দিশেহারা।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বোরো মৌসুমে সময়মতো সেচ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট একসঙ্গে দেখা দেওয়ায় উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয়দের দাবি, কৃষি নির্ভর এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে খাদ্য উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তাই জরুরি ভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পর্যাপ্ত ডিজেল-পেট্রোল নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

Bangla Photocard Generatorv3.7