Dhaka ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
News Title :
ওয়েজ বোর্ডসহ সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় তেলের দাম বাড়ল হাইকোর্টে বাড়ছে রিট নিষ্পত্তি: বিচারিক শৃঙ্খলায় কমবে মামলার চাপ কৃষকের চাহিদাকে অগ্রাধিকার : ৬৪ জেলায় শতভাগ সার বরাদ্দ বিএনপি সরকারের মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়নের সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে : প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন : বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ইসির প্রস্তুতি সভা আজ সাংবাদিকদের কারণেই দেশে গণতন্ত্র টিকে আছে : তথ্যমন্ত্রী শত বাধা ও কঠিন পথ পেরিয়ে বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিএনপি ৪৯ বছরে পা রাখছে বিএনপি, শহীদ জিয়ার ১৯ দফা এখনো দলের পথনির্দেশক গুমের আগে কোথায় কীভাবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন, রোমহর্ষক বর্ণনা

নাটোর আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের মারধর করলেন বরখাস্ত এসপি ফজলুল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২২:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ মার্চ ২০২৫
  • ৪ Time View

নাটোর প্রতিনিধি : বরখাস্ত পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম ফজলুল হক এবার নাটোর আদালত চত্বরে কয়েক সাংবাদিককে মারধর করলেন। স্ত্রী মেহনাজ আকতার আমিনের দায়ের করা নারী নির্যাতনের মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিতে এসেছিলেন ফজলুল হক। এজলাস থেকে কোর্ট হাজতে নেওয়ার সময় হাতকড়া না পরানোর সুযোগে ফজলুল হক চড়াও হন গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নাটোর আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

আদালত ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে স্ত্রী মেহনাজ আকতার আমিনের দায়ের করা নারী নির্যাতনের মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিয়ে জামিন চান বরখাস্ত এসপি ফজলুল হক। আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর কোর্ট পুলিশের একটি দল তাঁকে এজলাস থেকে কোর্ট হাজত পর্যন্ত নিয়ে আসেন। কোর্ট হাজতে ঢোকার সেই দৃশ্য উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা ক্যামেরায় ধারণ করার সময় তিনি এখন টিভির চিত্রসাংবাদিক শামীম হোসেন সুমন, সময় টিভির চিত্রসাংবাদিক রোকন হিমু ও এনটিভির চিত্রসাংবাদিক আর এম রবিকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন।

ফজলুল হকের সঙ্গে কোর্ট পুলিশের সদস্যরা থাকলেও তাঁরা কেউই বাধা দেননি। তিন চিত্রসাংবাদিককে মারধর করতে দেখে অন্য গণমাধ্যমকর্মীরা এগিয়ে এলে কোর্ট পুলিশের সদস্যরা ফজলুল হককে দ্রুত হাজতে ঢুকিয়ে দেন। পরে জেলার সব সাংবাদিক আদালত চত্বরে অবস্থান নিলে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁকে প্রিজন ভ্যানে তুলে কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।

কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পরও একজন আসামিকে কেন হাতকড়া পরানো হয়নি জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মোস্তফা কামাল।

নাটোর আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদ মাহমুদ মিঠু বলেন, ‘একজন আসামির পরিচয় যাই হোক না কেন, বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পর হাতকড়া পরানোটাই প্রচলিত; এটা সব আসামির ক্ষেত্রেই নিরাপত্তার স্বার্থে করা হয়। কিন্তু একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলে আইন তাঁর বেলায় শিথিলভাবে প্রয়োগ হবে, তা আইনের লঙ্ঘন।’

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদা শারমিন নেলী বলেন, সেনাবাহিনী ও সাংবাদিকদের সহায়তায় পরিস্থিতি শান্ত করেই আসামি ফজলুল হককে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বরখাস্ত এসপি এস এম ফজলুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাটোর সদরের জংলী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে এস এম ফজলুল হকের সঙ্গে ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর মেহনাজ আক্তার আমিনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে ১৫ ও ৮ বছর বয়সী দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০২১ সালে র‍্যাবে এসপি হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় সেনাবাহিনী সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ কথা বলার ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার জের ধরে ফজলুল হককে সরকার শাস্তি দেয়। একই বছর তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্তও করা হয়। এদিকে তিনি একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ায় স্ত্রী বাধা দেন। তাতে স্ত্রী-সন্তানদের মারধর শুরু করেন তিনি। ২০২৩ সালে ফজলুল হক পুনরায় ঠাকুরগাঁয়ে ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে এসপি হিসেবে যোগ দিয়ে সেখানকার জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের এক নারী কর্মকর্তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একটি ভাড়া বাসায় সেই নারীর সঙ্গে অবস্থান করার সময় স্ত্রী-সন্তানেরা কৌশলে সেখানে উপস্থিত হন। এতে ফজলুল হক ক্ষিপ্ত হয়ে শীতের মধ্যে রাতে স্ত্রী-সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এমন নানা অনিয়ম ও অনৈতিক কাজে জড়িত থাকায় ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ বিগত সরকার তাঁকে আবারও বরখাস্ত করে। এ ঘটনার পর ফজলুল হক রাজশাহীর বাসায় এসে স্ত্রী-সন্তানদের জোর করে অভিযোগ নেই মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেন। তাঁর ভয়ে স্ত্রী-সন্তানেরা পুলিশ সদর দপ্তরে তদন্ত কমিটির সামনেও হাজির হতে পারেননি। ইতিমধ্যে ফজলুল হক জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে কর্মরত সেই নারী কর্মকর্তাকে বিয়ে করে নাটোর শহরের মোহনপুরে বাসা নিয়ে বসবাস শুরু করেছেন।

ফজলুর হকের স্ত্রী মেহনাজ আক্তার আমিন বলেন, ‘এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় আমার ও সন্তানদের কোনো খরচ বহন না করে উল্টো আমার এবং বাবা-মা ও ভাইদের নামে দুটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। তিনি সুযোগ পেলেই যেকোনো মানুষের ওপর ক্ষমতা দেখান, কেউ বাদ যায় না। আমি সন্তানসহ পুরো পরিবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পুলিশপ্রধানের কাছে হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা কামনা করছি।’

বরখাস্ত পুলিশ সুপার এস এম ফজলুল হক

Bangla Photocard Generatorv3.7

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ওয়েজ বোর্ডসহ সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

নাটোর আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের মারধর করলেন বরখাস্ত এসপি ফজলুল

Update Time : ০৮:২২:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ মার্চ ২০২৫

নাটোর প্রতিনিধি : বরখাস্ত পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম ফজলুল হক এবার নাটোর আদালত চত্বরে কয়েক সাংবাদিককে মারধর করলেন। স্ত্রী মেহনাজ আকতার আমিনের দায়ের করা নারী নির্যাতনের মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিতে এসেছিলেন ফজলুল হক। এজলাস থেকে কোর্ট হাজতে নেওয়ার সময় হাতকড়া না পরানোর সুযোগে ফজলুল হক চড়াও হন গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নাটোর আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

আদালত ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে স্ত্রী মেহনাজ আকতার আমিনের দায়ের করা নারী নির্যাতনের মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিয়ে জামিন চান বরখাস্ত এসপি ফজলুল হক। আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর কোর্ট পুলিশের একটি দল তাঁকে এজলাস থেকে কোর্ট হাজত পর্যন্ত নিয়ে আসেন। কোর্ট হাজতে ঢোকার সেই দৃশ্য উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা ক্যামেরায় ধারণ করার সময় তিনি এখন টিভির চিত্রসাংবাদিক শামীম হোসেন সুমন, সময় টিভির চিত্রসাংবাদিক রোকন হিমু ও এনটিভির চিত্রসাংবাদিক আর এম রবিকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন।

ফজলুল হকের সঙ্গে কোর্ট পুলিশের সদস্যরা থাকলেও তাঁরা কেউই বাধা দেননি। তিন চিত্রসাংবাদিককে মারধর করতে দেখে অন্য গণমাধ্যমকর্মীরা এগিয়ে এলে কোর্ট পুলিশের সদস্যরা ফজলুল হককে দ্রুত হাজতে ঢুকিয়ে দেন। পরে জেলার সব সাংবাদিক আদালত চত্বরে অবস্থান নিলে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁকে প্রিজন ভ্যানে তুলে কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।

কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পরও একজন আসামিকে কেন হাতকড়া পরানো হয়নি জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মোস্তফা কামাল।

নাটোর আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদ মাহমুদ মিঠু বলেন, ‘একজন আসামির পরিচয় যাই হোক না কেন, বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পর হাতকড়া পরানোটাই প্রচলিত; এটা সব আসামির ক্ষেত্রেই নিরাপত্তার স্বার্থে করা হয়। কিন্তু একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলে আইন তাঁর বেলায় শিথিলভাবে প্রয়োগ হবে, তা আইনের লঙ্ঘন।’

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদা শারমিন নেলী বলেন, সেনাবাহিনী ও সাংবাদিকদের সহায়তায় পরিস্থিতি শান্ত করেই আসামি ফজলুল হককে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বরখাস্ত এসপি এস এম ফজলুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাটোর সদরের জংলী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে এস এম ফজলুল হকের সঙ্গে ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর মেহনাজ আক্তার আমিনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে ১৫ ও ৮ বছর বয়সী দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০২১ সালে র‍্যাবে এসপি হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় সেনাবাহিনী সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ কথা বলার ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার জের ধরে ফজলুল হককে সরকার শাস্তি দেয়। একই বছর তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্তও করা হয়। এদিকে তিনি একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ায় স্ত্রী বাধা দেন। তাতে স্ত্রী-সন্তানদের মারধর শুরু করেন তিনি। ২০২৩ সালে ফজলুল হক পুনরায় ঠাকুরগাঁয়ে ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে এসপি হিসেবে যোগ দিয়ে সেখানকার জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের এক নারী কর্মকর্তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একটি ভাড়া বাসায় সেই নারীর সঙ্গে অবস্থান করার সময় স্ত্রী-সন্তানেরা কৌশলে সেখানে উপস্থিত হন। এতে ফজলুল হক ক্ষিপ্ত হয়ে শীতের মধ্যে রাতে স্ত্রী-সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এমন নানা অনিয়ম ও অনৈতিক কাজে জড়িত থাকায় ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ বিগত সরকার তাঁকে আবারও বরখাস্ত করে। এ ঘটনার পর ফজলুল হক রাজশাহীর বাসায় এসে স্ত্রী-সন্তানদের জোর করে অভিযোগ নেই মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেন। তাঁর ভয়ে স্ত্রী-সন্তানেরা পুলিশ সদর দপ্তরে তদন্ত কমিটির সামনেও হাজির হতে পারেননি। ইতিমধ্যে ফজলুল হক জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে কর্মরত সেই নারী কর্মকর্তাকে বিয়ে করে নাটোর শহরের মোহনপুরে বাসা নিয়ে বসবাস শুরু করেছেন।

ফজলুর হকের স্ত্রী মেহনাজ আক্তার আমিন বলেন, ‘এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় আমার ও সন্তানদের কোনো খরচ বহন না করে উল্টো আমার এবং বাবা-মা ও ভাইদের নামে দুটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। তিনি সুযোগ পেলেই যেকোনো মানুষের ওপর ক্ষমতা দেখান, কেউ বাদ যায় না। আমি সন্তানসহ পুরো পরিবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পুলিশপ্রধানের কাছে হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা কামনা করছি।’

বরখাস্ত পুলিশ সুপার এস এম ফজলুল হক

Bangla Photocard Generatorv3.7