Dhaka ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
News Title :
শত বাধা ও কঠিন পথ পেরিয়ে বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিএনপি ৪৯ বছরে পা রাখছে বিএনপি, শহীদ জিয়ার ১৯ দফা এখনো দলের পথনির্দেশক গুমের আগে কোথায় কীভাবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন, রোমহর্ষক বর্ণনা পেশাদারিত্ব বজায় রেখে বাসসকে বিশ্বমানের সংস্থায় রূপান্তর করা হবে : কাদের গনি চৌধুরী ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের কারিকুলামে ব্যাপক সংস্কার আনছে সরকার : মাহদী আমিন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স : বিদ্যমান  আইন বাস্তবায়নে সারাদেশে বিশেষ অভিযান দিনাজপুরে উট পাখির সফল প্রজনন বিদায় হজের ভাষণ আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক : রাষ্ট্রপতি  মেয়েদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহালের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

উপজেলা নির্বাচন: পবা ও মোহনপুরে হামলা-সংঘর্ষ আহত ১৩

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:২৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪
  • ২ Time View

স্টাফ রিপোর্টার : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর পবা ও মোহনপুর উপজেলার ছয়টি কেন্দ্রে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষিপ্ত এসব সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।

এরমধ্যে মোহনপুরে ১২ জন এবং পবায় ১ জন আহত হন। বুধবার (২৯ মে) সকালে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও দুপুর গড়াতেই দুই উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীসমর্থকরা বিভিন্ন কেন্দ্রের আশপাশে বিবাদে জড়ান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের পারিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে আনারস প্রতীকের প্রার্থী ফারুক হোসেন ডাবলু ও ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী এমদাদুল হকের সমর্থকদের মধ্যে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বেলা ১১টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে একজন ছুরিকাহত হলে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত ওই ব্যক্তির নাম আব্দুল মোমিন (৩০)। তিনি পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের মো. শুকটার ছেলে। আব্দুল মোমিন ঘোড়া প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী এমদাদুল হকের সমর্থক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীর কয়েকজন কর্মীসমর্থক অটোরিকশায় চড়ে ভোটকেন্দ্রে আসেন। এ সময় ভোটকেন্দ্রের সামনে আনারস প্রতীকের সমর্থক পাভেল, পুলক, স্বদেশ, সাইম, শাওন, ফরহাদুল, সাগর, হৃদয়, জাকির, মনি, মোসাব্বির, সোহানসহ প্রায় ২০-২৫ জন মোমিনকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে উপুর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তারা সরে গেলে এমদাদুল হকের সমর্থকরা আহত ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

ঘটনার পর ভোটকেন্দ্রের পূর্ব পাশে তালুকদার পারিলা মোড়ে অবস্থান নেন আনারস প্রতীকের প্রার্থীর কর্মীসমর্থকরা। আর পশ্চিম দিকে তরফ পারিলা গ্রামে গিয়ে বসেন ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী এমদাদুল হক ও তার সমর্থকরা। এ সময় খবর পেয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী এমদাদুল হক সেখানে যান এবং সমর্থকদের সাথে নিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকেন। সেখানে তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ফোন করে এই হামালার ব্যাপার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী ডাবলুর সমর্থকরাই এই হামলা চালিয়েছে। তিনি এর বিচার চান।

তবে ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার গোলাম রাব্বানী বলেন, কেন্দ্রের বাইরে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই। কেন্দ্রের ভেতর কিছু হয়নি।

কেন্দ্রটির ভোটার ৪ হাজার ২৫৭ জন। দুপুর পর্যন্ত সেখানে ভোটগ্রহণ চলছিল।

অন্যদিকে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার সিংহমারা, হাটরা, মহিশকুণ্ডি কেন্দ্রের বাইরে আনারস ও কাপ পিরিচ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীসমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। তবে এসব ঘটনার পরেও নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রায় প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রেই ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচনকে ঘিরে যে কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কেন্দ্রের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে আসা রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) শামীম আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, তারা সকাল থেকেই এ দুই উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখছেন, অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই নির্বাচন হচ্ছে। তবে কয়েকটি এলাকায় কিছু অতি উৎসাহী মানুষ গোলোযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সমন্বয়ের মাধ্যমে ঘটনাগুলো প্রতিহত করছেন।

পবা উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৮৪টি, ভোটকক্ষের সংখ্যা ৬২৬টি, মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৩৮ জন। তার মধ্যে এই উপজেলায় পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৯০১ জন ও মহিলা রয়েছেন এক লাখ ২৯ হাজার ৯৩৪ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন তিনজন।

মোহনপুর উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪৫টি, মোট ভোট কক্ষের সংখ্যা ৩৪৬টি এবং ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৭২ হাজার ৭০৪ জন এবং নারী ভোটার সংখ্যা রয়েছে ৭২ হাজার ৮৩৯ জন।

Bangla Photocard Generatorv3.7

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

শত বাধা ও কঠিন পথ পেরিয়ে বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিএনপি

উপজেলা নির্বাচন: পবা ও মোহনপুরে হামলা-সংঘর্ষ আহত ১৩

Update Time : ০৪:২৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর পবা ও মোহনপুর উপজেলার ছয়টি কেন্দ্রে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষিপ্ত এসব সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।

এরমধ্যে মোহনপুরে ১২ জন এবং পবায় ১ জন আহত হন। বুধবার (২৯ মে) সকালে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও দুপুর গড়াতেই দুই উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীসমর্থকরা বিভিন্ন কেন্দ্রের আশপাশে বিবাদে জড়ান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের পারিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে আনারস প্রতীকের প্রার্থী ফারুক হোসেন ডাবলু ও ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী এমদাদুল হকের সমর্থকদের মধ্যে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বেলা ১১টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে একজন ছুরিকাহত হলে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত ওই ব্যক্তির নাম আব্দুল মোমিন (৩০)। তিনি পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের মো. শুকটার ছেলে। আব্দুল মোমিন ঘোড়া প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী এমদাদুল হকের সমর্থক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীর কয়েকজন কর্মীসমর্থক অটোরিকশায় চড়ে ভোটকেন্দ্রে আসেন। এ সময় ভোটকেন্দ্রের সামনে আনারস প্রতীকের সমর্থক পাভেল, পুলক, স্বদেশ, সাইম, শাওন, ফরহাদুল, সাগর, হৃদয়, জাকির, মনি, মোসাব্বির, সোহানসহ প্রায় ২০-২৫ জন মোমিনকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে উপুর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তারা সরে গেলে এমদাদুল হকের সমর্থকরা আহত ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

ঘটনার পর ভোটকেন্দ্রের পূর্ব পাশে তালুকদার পারিলা মোড়ে অবস্থান নেন আনারস প্রতীকের প্রার্থীর কর্মীসমর্থকরা। আর পশ্চিম দিকে তরফ পারিলা গ্রামে গিয়ে বসেন ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী এমদাদুল হক ও তার সমর্থকরা। এ সময় খবর পেয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী এমদাদুল হক সেখানে যান এবং সমর্থকদের সাথে নিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকেন। সেখানে তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ফোন করে এই হামালার ব্যাপার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী ডাবলুর সমর্থকরাই এই হামলা চালিয়েছে। তিনি এর বিচার চান।

তবে ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার গোলাম রাব্বানী বলেন, কেন্দ্রের বাইরে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই। কেন্দ্রের ভেতর কিছু হয়নি।

কেন্দ্রটির ভোটার ৪ হাজার ২৫৭ জন। দুপুর পর্যন্ত সেখানে ভোটগ্রহণ চলছিল।

অন্যদিকে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার সিংহমারা, হাটরা, মহিশকুণ্ডি কেন্দ্রের বাইরে আনারস ও কাপ পিরিচ প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীসমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। তবে এসব ঘটনার পরেও নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রায় প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রেই ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচনকে ঘিরে যে কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কেন্দ্রের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে আসা রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) শামীম আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, তারা সকাল থেকেই এ দুই উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখছেন, অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই নির্বাচন হচ্ছে। তবে কয়েকটি এলাকায় কিছু অতি উৎসাহী মানুষ গোলোযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সমন্বয়ের মাধ্যমে ঘটনাগুলো প্রতিহত করছেন।

পবা উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৮৪টি, ভোটকক্ষের সংখ্যা ৬২৬টি, মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৩৮ জন। তার মধ্যে এই উপজেলায় পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৯০১ জন ও মহিলা রয়েছেন এক লাখ ২৯ হাজার ৯৩৪ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন তিনজন।

মোহনপুর উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪৫টি, মোট ভোট কক্ষের সংখ্যা ৩৪৬টি এবং ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৭২ হাজার ৭০৪ জন এবং নারী ভোটার সংখ্যা রয়েছে ৭২ হাজার ৮৩৯ জন।

Bangla Photocard Generatorv3.7