Dhaka ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
News Title :
ওয়েজ বোর্ডসহ সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় তেলের দাম বাড়ল হাইকোর্টে বাড়ছে রিট নিষ্পত্তি: বিচারিক শৃঙ্খলায় কমবে মামলার চাপ কৃষকের চাহিদাকে অগ্রাধিকার : ৬৪ জেলায় শতভাগ সার বরাদ্দ বিএনপি সরকারের মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়নের সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে : প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন : বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ইসির প্রস্তুতি সভা আজ সাংবাদিকদের কারণেই দেশে গণতন্ত্র টিকে আছে : তথ্যমন্ত্রী শত বাধা ও কঠিন পথ পেরিয়ে বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিএনপি ৪৯ বছরে পা রাখছে বিএনপি, শহীদ জিয়ার ১৯ দফা এখনো দলের পথনির্দেশক গুমের আগে কোথায় কীভাবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন, রোমহর্ষক বর্ণনা

বৃষ্টির আশায় ‘শিমুল’ ও ‘মেঘলার’ বিয়ে

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মে ২০২৪
  • ৮ Time View

স্টাফ রিপোর্টার : কাগজের ফুল আর কলাগাছ দিয়ে ছাদনাতলা সাজানো। পাশেই ডালাভরে রাখা হয়েছে ধান, প্রদীপ, দুর্বা ঘাস, হলুদ, সিঁদুর, সবুজ পাতা আর দুটি লাড্ডু। ঢাক-ঢোল বাজছে। একদল নারী-শিশু প্রস্তুত বরযাত্রী যাবেন বলে। কিন্তু বেলা গড়ালেও বরের তখনো গোসলই হয়নি। বর বসে আছে বালতির ভেতর। তাকে গোসল করাতে পাশেই কয়েক কোদাল মাটি খুঁড়ে একটি পুকুর বানানো হলো।

সেখানে গোসল করাতে যেই না বরকে বের করা হলো, ওমনি সে হাত থেকে ছুটে গেল। সঙ্গে সঙ্গে সবাই বলে উঠল, ‘এই ধর, ধর। বিয়ে করবে না নাকি?’

বিয়ের মত-অমতের বিষয়ে কিছু জানা না গেলেও এই বরকে ঠিকই বিয়ে করতে হয়েছে। এই বর একটি কোলা ব্যাঙ। বৃষ্টির আশায় এক ব্যাঙানির সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তার বিয়ে দেওয়া হয়েছে।


প্রতীকী এই বিয়ের আয়োজন করা হয় রাজশাহীর পবা উপজেলার ভুগরইল পশ্চিম আদিবাসীপাড়ায়। এ গ্রামের বাসিন্দারা পাহাড়িয়া সম্প্রদায়। তাঁরা খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারী। পাহাড়িয়া রীতিনীতি অনুযায়ী এই ব্যাঙের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

গ্রামের একমাত্র চার্চের শিক্ষক আঞ্জলী বিশ্বাসসহ কয়েকজন ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন করেন। এ জন্য বুধবার বিকেলে তাঁরা গ্রামের এক শুকনো পুকুরপাড় থেকে একটি ছেলে ব্যাঙ ও একটি মেয়ে ব্যাঙ ধরেন আনেন। তারপর সন্ধ্যায় চার্চে সাজানো ছাদনাতলায় বর ও কনের গায়েহলুদ অনুষ্ঠিত হয়।

এই বিয়েতে বরের নাম রাখা হয় শিমুল। আর কনের নাম মেঘলা বিশ্বাস। গায়েহলুদের পর কনেকে রাখা হয়েছিল গ্রামের আলফন্স বিশ্বাসের বাড়িতে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রামের নারী ও শিশু-কিশোরীরা নেচে-গেয়ে নানা আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন। এরপর সবাই লাইন ধরে গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ নারীদের আশীর্বাদ নিয়ে বরযাত্রী হিসেবে বর নিয়ে রওনা দেয়। সঙ্গে যান বরের প্রতীকী বাবা সৈকত বিশ্বাস আর প্রতীকী মা ভাবনা বিশ্বাস নামের দুই শিশু।

আলফন্স বিশ্বাসের বাড়ি গেলে বরের বাবা-মায়ের পা ধুইয়ে দেওয়া হয় পানি দিয়ে। তারপর সবাই বাড়িতে কনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। কনে সাজানো শেষ হলে আঞ্জলী বিশ্বাস পুরোহিত সেজে বর-কনের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

এরপর বর শিমুলের হাত দিয়ে কনে মেঘলার মাথায় সিঁদুর পরিয়ে দেওয়া হয়। খাওয়া-দাওয়ার পর শেষ হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। পরে বর-কনেকে একটি পুকুরের ভেতর ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিয়ের আয়োজক অঞ্জলী বিশ্বাস বলেন, ‘টানা খরায় পথঘাট পুড়ে যাচ্ছে। সব ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। পশুপাখি ও অন্যান্য প্রাণী কষ্ট পাচ্ছে পানির অভাবে। আমরা বিশ্বাস করি ব্যাঙের বিয়ে দিলে বৃষ্টি হবে। তাই আমাদের সামাজিক রীতিনীতি অনুযায়ী দুই কোলা ব্যাঙের বিয়ে দেওয়া হলো।’

Bangla Photocard Generatorv3.7

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ওয়েজ বোর্ডসহ সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

বৃষ্টির আশায় ‘শিমুল’ ও ‘মেঘলার’ বিয়ে

Update Time : ১১:৪৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মে ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার : কাগজের ফুল আর কলাগাছ দিয়ে ছাদনাতলা সাজানো। পাশেই ডালাভরে রাখা হয়েছে ধান, প্রদীপ, দুর্বা ঘাস, হলুদ, সিঁদুর, সবুজ পাতা আর দুটি লাড্ডু। ঢাক-ঢোল বাজছে। একদল নারী-শিশু প্রস্তুত বরযাত্রী যাবেন বলে। কিন্তু বেলা গড়ালেও বরের তখনো গোসলই হয়নি। বর বসে আছে বালতির ভেতর। তাকে গোসল করাতে পাশেই কয়েক কোদাল মাটি খুঁড়ে একটি পুকুর বানানো হলো।

সেখানে গোসল করাতে যেই না বরকে বের করা হলো, ওমনি সে হাত থেকে ছুটে গেল। সঙ্গে সঙ্গে সবাই বলে উঠল, ‘এই ধর, ধর। বিয়ে করবে না নাকি?’

বিয়ের মত-অমতের বিষয়ে কিছু জানা না গেলেও এই বরকে ঠিকই বিয়ে করতে হয়েছে। এই বর একটি কোলা ব্যাঙ। বৃষ্টির আশায় এক ব্যাঙানির সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তার বিয়ে দেওয়া হয়েছে।


প্রতীকী এই বিয়ের আয়োজন করা হয় রাজশাহীর পবা উপজেলার ভুগরইল পশ্চিম আদিবাসীপাড়ায়। এ গ্রামের বাসিন্দারা পাহাড়িয়া সম্প্রদায়। তাঁরা খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারী। পাহাড়িয়া রীতিনীতি অনুযায়ী এই ব্যাঙের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

গ্রামের একমাত্র চার্চের শিক্ষক আঞ্জলী বিশ্বাসসহ কয়েকজন ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন করেন। এ জন্য বুধবার বিকেলে তাঁরা গ্রামের এক শুকনো পুকুরপাড় থেকে একটি ছেলে ব্যাঙ ও একটি মেয়ে ব্যাঙ ধরেন আনেন। তারপর সন্ধ্যায় চার্চে সাজানো ছাদনাতলায় বর ও কনের গায়েহলুদ অনুষ্ঠিত হয়।

এই বিয়েতে বরের নাম রাখা হয় শিমুল। আর কনের নাম মেঘলা বিশ্বাস। গায়েহলুদের পর কনেকে রাখা হয়েছিল গ্রামের আলফন্স বিশ্বাসের বাড়িতে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রামের নারী ও শিশু-কিশোরীরা নেচে-গেয়ে নানা আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন। এরপর সবাই লাইন ধরে গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ নারীদের আশীর্বাদ নিয়ে বরযাত্রী হিসেবে বর নিয়ে রওনা দেয়। সঙ্গে যান বরের প্রতীকী বাবা সৈকত বিশ্বাস আর প্রতীকী মা ভাবনা বিশ্বাস নামের দুই শিশু।

আলফন্স বিশ্বাসের বাড়ি গেলে বরের বাবা-মায়ের পা ধুইয়ে দেওয়া হয় পানি দিয়ে। তারপর সবাই বাড়িতে কনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। কনে সাজানো শেষ হলে আঞ্জলী বিশ্বাস পুরোহিত সেজে বর-কনের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

এরপর বর শিমুলের হাত দিয়ে কনে মেঘলার মাথায় সিঁদুর পরিয়ে দেওয়া হয়। খাওয়া-দাওয়ার পর শেষ হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। পরে বর-কনেকে একটি পুকুরের ভেতর ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিয়ের আয়োজক অঞ্জলী বিশ্বাস বলেন, ‘টানা খরায় পথঘাট পুড়ে যাচ্ছে। সব ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। পশুপাখি ও অন্যান্য প্রাণী কষ্ট পাচ্ছে পানির অভাবে। আমরা বিশ্বাস করি ব্যাঙের বিয়ে দিলে বৃষ্টি হবে। তাই আমাদের সামাজিক রীতিনীতি অনুযায়ী দুই কোলা ব্যাঙের বিয়ে দেওয়া হলো।’

Bangla Photocard Generatorv3.7